ন্যাটোর আদলে তুর্কি-সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা জোট, যুক্ত হচ্ছে কারা?


তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সদ্য গঠিত ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা জোটের পরিধি আরও বাড়াতে চায় আঙ্কারা। শনিবার (৮ আগস্ট) তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের বরাত দিয়ে জানান, এই জোটে কেবল তিনটি দেশেই সীমাবদ্ধ না থেকে প্রয়োজনে অন্য আঞ্চলিক দেশগুলোকেও এক ছাতার নিচে নিয়ে আসা উচিত।
এর আগে শুক্রবার তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরোধ চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্য ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তায় নতুন এক আঞ্চলিক শক্তির সূচনা করতে পারে।
চুক্তিতে কী আছে? মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিটি মূলত সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যকার আগের দ্বিপক্ষীয় চুক্তির একটি বর্ধিত রূপ। পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর অনুকরণে এর প্রধান শর্ত তৈরি করা হয়েছে—অর্থাৎ, জোটের যেকোনো একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর আক্রমণকে পুরো জোটের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।
তবে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, এই চুক্তিটি অন্য কোনো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে খর্ব করে না এবং এটি ইরানসহ নির্দিষ্ট কোনো দেশের বিরুদ্ধেও নির্দেশিত নয়।
পরবর্তীতে যুক্ত হতে পারে মিসর? চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর সূত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম যে দেশটির নাম উঠে এসেছে, তা হলো মিসর।
হাকান ফিদান জানান, কারিগরি ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই কায়রো এতে যোগ দেবে বলে তারা আশাবাদী। তবে বিশ্লেষক করিম এলগেন্ডি ও আহমেদ আবুদুহ মনে করেন, মিসর যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য অক্ষুণ্ণ রাখা, ইসরায়েল সংকট এবং স্বাধীনভাবে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করেই এতে সই করবে। বাধ্যতামূলক কোনো সামরিক দায়বদ্ধতায় জড়ানোর ক্ষেত্রে কায়রো কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে।
আর কোন কোন দেশ জোটে যোগ দিতে পারে? কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, অন্যান্য উপসাগরীয় ও আঞ্চলিক দেশগুলোও ভবিষ্যতে এই জোটে শামিল হতে পারে:
-
জিসিসি ভুক্ত দেশ: কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জসিম আল থানি আশা প্রকাশ করেছেন, জিসিসির অন্যান্য দেশও এতে যোগ দেবে।
-
অন্যান্য সম্ভাব্য দেশ: বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা সুরক্ষার তাগিদে কাতার ও কুয়েত সবচেয়ে আগে এই জোটে যুক্ত হতে পারে। এছাড়া আজারবাইজান, সিরিয়া এবং জর্ডানও তুলনামূলক দ্রুত সময়ে যুক্ত হওয়ার তালিকায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জোট সার্বজনীন কোনো ব্লক না হয়ে ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে একমত হওয়া দেশগুলোর জোট’ হিসেবে ধীরে ধীরে বিস্তৃত হতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা




