ওসি বললেন ‘ফায়ার’, এরপরই হাঁটুতে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি: ট্রাইব্যুনালে ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য


যশোরের চৌগাছায় পুলিশ হেফাজতে নিয়ে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে গুলি করার পর পঙ্গু হয়ে যাওয়ার নির্মম বর্ণনা দিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. রুহুল আমিন। তৎকালীন ওসি মশিউর রহমানের নির্দেশে হাঁটুতে বন্দুক ঠেকিয়ে তাদের গুলি করা হয় বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় সাক্ষী হিসেবে নিজের জবানবন্দি উপস্থাপন করেন রুহুল। তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলায় তিনি ছিলেন দ্বিতীয় সাক্ষী।
বর্তমানে যশোর ইবনে সিনা হাসপাতালের কম্পিউটার অপারেটর রুহুল আমিন জানান, ২০১৬ সালে তিনি যশোর সরকারি এমএম কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র এবং চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। ওই বছরের ৩ আগস্ট সহযোদ্ধা ও তৎকালীন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেনের সঙ্গে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে বুন্দলীতলা এলাকা থেকে চৌগাছা থানা পুলিশ তাদের আটক করে।
সাক্ষ্যে তিনি অভিযোগ করেন, আটকের পর থানায় নিয়ে রাতের বেলা তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান ও পুলিশ সদস্যরা তাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালান। একপর্যায়ে ভিডিও কলে তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমানকে দেখানো হলে তিনি পরদিন এসপির কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পরদিন দুপুরে তাদের যশোর ডিবি কার্যালয়ে এবং সন্ধ্যার পর চৌগাছার বুন্দলীতলা মাঠের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। চোখ ও হাত বেঁধে এক ভীতিকর পরিবেশ তৈরির পর তৎকালীন ওসি মশিউর রহমানের ‘ফায়ার’ নির্দেশে কনস্টেবল সাজ্জাদ ও জহরুল তাদের হাঁটুতে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি চালান।
গুলি করার পর ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়। ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়ার পর পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে গুলির ক্ষতস্থানে পচন ধরলে চিকিৎসকরা রুহুল ও ইসরাফিল—উভয়েরই ডান পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন।
এ মামলায় মোট আটজন আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠিত হয়েছে। আসামিদের মধ্যে তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরুল হক বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। সাবেক এসপি আনিসুর রহমান ও তৎকালীন ওসি মশিউর রহমানসহ বাকি পাঁচ আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।




