ডিম খাওয়ার সেরা পদ্ধতি কোনটি?


ডিম উচ্চমানের প্রোটিনের অন্যতম সেরা ও সহজলভ্য উৎস। প্রতিটি ডিমে সাধারণত ৬ থেকে ৭ গ্রাম প্রোটিন থাকে। তবে ডিম কাঁচা, সেদ্ধ নাকি ভেজে খাওয়া হচ্ছে—তার ওপর নির্ভর করে শরীর ঠিক কতটুকু প্রোটিন শোষণ করতে পারবে এবং অতিরিক্ত কত ক্যালোরি গ্রহণ করবে।
২০২২ সালে নিউট্রিয়েন্টস জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ডিমের প্রোটিন অত্যন্ত সহজে হজমযোগ্য এবং এতে শরীরের প্রয়োজনীয় সব অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড রয়েছে। রান্নার ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে ডিমের পুষ্টিগুণের রূপান্তর নিচে তুলে ধরা হলো:
কাঁচা ডিমে প্রোটিনের পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকলেও শরীর তা পূর্ণাঙ্গভাবে শোষণ করতে পারে না। কাঁচা প্রোটিনের গঠন জটিল হওয়ায় শরীর এর মাত্র অর্ধেক অংশ গ্রহণ করতে পারে। তাছাড়া কাঁচা ডিমে সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের চরম ঝুঁকি থাকে।
ডিম খাওয়ার সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি হলো সেদ্ধ বা আংশিক রান্না (যেমন: পোচ)। তাপের সংস্পর্শে এলে প্রোটিনের গঠন ভেঙে সহজে হজমযোগ্য হয়ে ওঠে, ফলে শরীর প্রায় ৯০% প্রোটিন শোষণ করতে পারে। এতে কোনো অতিরিক্ত তেল বা মাখন না লাগায় ক্যালোরির পরিমাণও থাকে নিয়ন্ত্রণে, যা ওজন কমাতেও সহায়াত করে।
ভাজলে প্রোটিনের শোষণ ক্ষমতা সেদ্ধ ডিমের মতোই থাকে। তবে অতিরিক্ত তেল বা মাখনে ভাজার ফলে এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ক্যালোরির পরিমাণ অনেকটা বেড়ে যায়।
-
পেশী ও বৃদ্ধি: ডিমের সুষম প্রোটিন শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি এবং বয়স্কদের পেশীর স্বাভাবিক ক্ষয় (সারকোপেনিয়া) প্রতিরোধে দারুণ কার্যকর।
-
অপুষ্টি রোধ: সহজে হজমযোগ্য প্রোটিন ও পুষ্টি উপাদানের কারণে এটি অপুষ্টি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সামগ্রিকভাবে, নিরাপত্তা, পুষ্টিগুণের ভারসাম্য ও হজমযোগ্যতার বিচারে সেদ্ধ বা আংশিক সেদ্ধ ডিম গ্রহণ করাই সবচেয়ে উত্তম।




