জয়পুরহাটে ক্লিনিকে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ, ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি


জয়পুরহাট শহরের ‘জয়পুর ক্লিনিক’ নামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে প্রসবের সময় চিকিৎসকের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে এ কমিটি গঠন করা হয় এবং কমিটিকে আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এর আগে শনিবার (৮ আগস্ট) শিশুটির বাবা পাঁচবিবি উপজেলার কড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান কাজল সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
সিভিল সার্জন ডা. মো. আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে ৪০০ শয্যার জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সরদার রাশেদ মোবারককে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন একই হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি) ডা. নাসিমা আক্তার নীনা এবং ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী অধ্যাপক (গাইনি) ডা. মোর্শেদা খাতুন স্বপ্না।
অভিযোগপত্রে জানা যায়, গাইনি চিকিৎসক নূর-উন নাহার নাজমীর পরামর্শে গত ৩ আগস্ট সকালে রহিমা খাতুনকে জয়পুর ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, প্রসূতি দীর্ঘ সময় তীব্র প্রসব বেদনায় ছটফট করলেও সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার না করে জোরপূর্বক স্বাভাবিক প্রসব করানোর চেষ্টা করেন চিকিৎসক ও নার্সরা।
শিশুর বাবার দাবি, প্রসবের সময় ৪-৫ জন মিলে প্রসূতির হাত-পা চেপে ধরে শিশুটিকে টেনে বের করার চেষ্টা করা হয়। এতে নবজাতকের শরীরে একাধিক ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং জন্মের কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশুটি মারা যায়। স্বজনরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে জয়পুর ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




