সীতাকুণ্ডে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার পর গলা কেটে হত্যা: আসামি বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার পর শ্বাসনালি কেটে হত্যার মামলায় একমাত্র আসামি বাবু শেখকে (৫০) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন ধারায় অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস আলেয়া এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি বাবু শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত বাবু শেখ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মধ্যম পুলুপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান:

  • দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা): আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

  • নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (৭ ধারা): যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড।

  • নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (৯-এর ৪-এর খ ধারা): ধর্ষণের চেষ্টার অপরাধে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ১ মার্চ চকলেট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় বাবু শেখ। পরে সীতাকুণ্ডের বোটানিক্যাল গার্ডেন-সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি প্রকাশ করে দেওয়ার কথা বললে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির গলা কেটে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ মার্চ শিশুটির মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর শিশুটির মা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত শেষে ১৫ জুন আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়া হয়। এরপর ১৮ জুন অপহরণ, ধর্ষণের চেষ্টা ও হত্যার ধারায় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। গত ২ জুলাই উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত ৯ জুলাই রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছিলেন।

Related Articles

Back to top button