৫ টাকায় ‘খাসির মাংসের চপ’, প্রতিদিন বিক্রি ২ হাজার পিস

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে যেখানে সাধারণ আলুর চপের দামও ১০ টাকা, সেখানে মাত্র ৫ টাকায় মিলছে খাসির মাংসের চপ। অবিশ্বাস্য মনে হলেও চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের মিনাজপুর বাজারে এমনই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন মোহাম্মদ আলী হোসেন। তার দোকানে প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে দেড় থেকে দুই হাজার পিস চপ। স্বাদ ও সাশ্রয়ী দামের টানে দূর-দূরান্ত থেকেও ছুটে আসছেন ক্রেতারা।

জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের মিনাজপুর গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী হোসেন পেশায় একটি স্কুলের দপ্তরি। স্কুলের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অবসর সময়ে মিনাজপুর বাজারে বসান ছোট্ট খাবারের দোকান। সেখানে আলুর চপ, পেঁয়াজু ও সিঙ্গারার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে তার ৫ টাকার খাসির মাংসের চপ।

এত কম দামে খাসির মাংসের চপ কীভাবে বিক্রি করছেন— জানতে চাইলে আলী হোসেন বলেন, এর পেছনে রয়েছে নিজেদের শ্রম। দোকানে কোনো কর্মচারী নেই; স্কুল শেষে তার দুই ছেলে কাজে সহযোগিতা করেন। তিনজনের সম্মিলিত শ্রমের কারণে কর্মচারীর বাড়তি খরচ না থাকায় কম দামে চপ বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে।

আলী হোসেন জানান, প্রতিদিন তার দোকানে ৬ থেকে ৭ কেজি খাসির মাংস, এক মণ আলু ও এক মণ পেঁয়াজসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করা হয়। প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার পিস চপ বিক্রি হয় এবং শুক্রবার ক্রেতাদের ভিড় সবচেয়ে বেশি থাকে। তিনি আরও জানান, কম দামের পাশাপাশি খাবারের স্বাদ, মান ও পরিচ্ছন্নতাও ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে।

দামুড়হুদা থেকে আসা রাসেল নামের এক যুবক বলেন, “আমি এই চপ খেতে এসেছি। স্বাদে অতুলনীয় এবং দামে সাশ্রয়ী। সন্ধ্যা নামলেই এই দোকানটি আমাদের আড্ডার জায়গা হয়ে ওঠে।”

অন্যান্য ক্রেতারাও খাবারের মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। ইয়ারুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা জানান, চপ ভাজার জন্য তাজা তেল ব্যবহার করায় এটি বেশ স্বাস্থ্যসম্মত। স্থানীয় ইউপি সদস্য ইনামুজ্জামান টোটন বলেন, “বিকেল নামলেই দূর-দূরান্ত থেকে প্রচুর মানুষ এই চপ খেতে আসছেন। বর্তমান বাজারে ৫ টাকার খাসির মাংসের চপ এখন তার দোকানের প্রধান পরিচিতি হয়ে উঠেছে।”

Related Articles

Back to top button