নরসিংদীতে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ


অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে নরসিংদীর মাধবদীতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিস ঘেরাও এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিকরা।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ অফিসের সামনে ও মহাসড়কে অবস্থান নেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা। এতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং দুর্ভোগে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাধবদী থানা পুলিশ, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতারা ঘটনাস্থলে আসেন। পরবর্তীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেওয়া হলে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন এবং মহাসড়কে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে স্থানীয় শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের কাজ বিঘ্নিত হওয়ায় তারা ঠিকমতো বেতন পাচ্ছেন না। ফলে মাধবদী এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জোর দাবি জানান তারা।
আমান উল্লাহ নামে এক শ্রমিক বলেন, “লোডশেডিংয়ের কারণে কাপড় উৎপাদন করতে পারছি না, বেতনও পাচ্ছি না। এভাবে চললে চাকরি থাকবে না। প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করেছি, তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে লাগাতার কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।”
নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মহসিন কবির জানান, লোডশেডিং একটি জাতীয় সমস্যা এবং তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখছেন না। তবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মাধবদী এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হবে।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে অবস্থান নিলেও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিকের আশ্বাসে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল ও সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।




