যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের নেপথ্যে ট্রাম্পের অতিহস্তক্ষেপ


যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রকৃত সীমানা স্পষ্টভাবে উন্মোচিত হয়েছে। সাউথ ক্যারোলিনা, নর্থ ক্যারোলিনা, টেক্সাস এবং মিশিগানের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোতে ট্রাম্পের সমর্থনপুষ্ট প্রার্থীরা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নিজের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আন্দোলন ঘিরে রিপাবলিকান পার্টিকে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। অভিজ্ঞ ও শক্তিশালী যোগাযোগ নেটওয়ার্কের প্রার্থীদের বাদ দিয়ে তিনি নিজের অনুগত ও আদর্শগত মিত্রদের প্রাধান্য দেন। টেক্সাসের প্রাইমারিতে নিরাপদ প্রার্থী সিনেটর জন করনিনের পরিবর্তে কেন প্যাক্সটনকে এগিয়ে দেওয়া কিংবা নর্থ ক্যারোলিনায় থম টিলিসকে কোণঠাসা করার মতো সিদ্ধান্তগুলো দলীয় শিবিরকে মারাত্মকভাবে বিভক্ত করেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই অযাচিত হস্তক্ষেপের ফলেই রিপাবলিকানরা নিশ্চিত আসনগুলো হাতছাড়া করেছে।
বিশ্লেষক ও দলীয় নেতারা মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার সহজাত যোগাযোগ। কিন্তু শুল্ক নীতি এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ে ভোটারদের গভীর হতাশা বুঝতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। রিপাবলিকান কৌশলবিদ ডৌ হাই একে ‘ট্রাম্প-কম্পন’ হিসেবে উল্লেখ করে জানান যে, ট্রাম্প নিজের কাছে যা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন সেটাই ভোটারদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল।
নির্বাচনী ফলাফলে সাউথ ক্যারোলিনায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুস, নর্থ ক্যারোলিনায় রয় কুপার, টেক্সাসে জেমস ট্যালারিকো এবং মিশিগানে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে ইতিহাস গড়া আবদুল এল-সায়েদের জয় রিপাবলিকানদের ভরাডুবি নিশ্চিত করে। পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প নিজে ব্যালটে ছিলেন না বলে দাবি করলেও, হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ জরিপ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী নির্বাচনের অনেক আগেই এই বিপর্যয়ের ইঙ্গিত মিলেছিল। পরিশেষে, দলের বৃহত্তর স্বার্থে ট্রাম্পকে সাধারণ মানুষের সেই পুরোনো সংযোগ দ্রুত ফিরে পাওয়ার তাগিদ দিয়েছেন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা।




