আপনার স্বামী কি নার্সিসিস্টিক? যেভাবে বুঝবেন

বিবাহিত জীবনে মতপার্থক্য বা বোঝাপড়ার ঘাটতি স্বাভাবিক হলেও, কোনো সম্পর্ক যদি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যেখানে আপনার প্রতিটি কথা বা ভুলত্রুটি আপনার নিজেরই দোষ হিসেবে তুলে ধরা হয়, তবে তা গভীর মানসিক ক্লান্তির কারণ হতে পারে।

নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার একটি স্বীকৃত মানসিক সমস্যা হলেও, কারো মধ্যে কিছু নার্সিসিস্টিক বৈশিষ্ট্য থাকলেই যে তার এই রোগ রয়েছে তা বলা যায় না। তবে দাম্পত্য জীবনে এমন আচরণের উপস্থিতি বোঝার জন্য কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণের দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে:

  • ১. প্রতিটি মতপার্থক্য আপনার দোষে পরিণত হওয়া: কোনো কষ্টের বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেলে আলোচনা ঘুরে আপনারই ভুল বা পুরোনো ত্রুটির দিকে চলে আসে। নিজের দায় স্বীকার না করার প্রবণতার কারণে একসময় কঠিন বিষয় নিয়ে আলোচনা করাই বন্ধ করে দিতে হয়।

  • ২. নিজের জন্য সবসময় প্রশংসা আশা করা এবং অপরকে মূল্যায়ন না করা: স্বামী নিজের প্রশংসা ও মনোযোগ চান, অথচ স্ত্রীর অর্জনগুলোকে গুরুত্বহীন মনে করেন কিংবা নিজের সাফল্যের গল্প বলার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেন।

  • ৩. অনুভূতির প্রতি উদাসীনতা ও অবমূল্যায়ন: কোনো কথায় কষ্ট পেলে তা শোনার পর ‘অতিরিক্ত সংবেদনশীল’ বা ‘অহেতুক বড় করে দেখা’ হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়, যার ফলে নিজের অনুভূতি নিয়েই একসময় সন্দেহ তৈরি হয়।

  • ৪. ঝগড়ার পর শাস্তি হিসেবে নীরবতা অবলম্বন বা নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া: যোগাযোগ করতে অস্বীকার করা বা স্নেহের হাত গুটিয়ে নেওয়াকে শাস্তি দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যাতে অপরপক্ষ নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়।

  • ৫. স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত বাউন্ডারিকে সম্মান না করা: ব্যক্তিগত পছন্দ, বন্ধু বা নিজের লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে অস্বস্তি প্রকাশ করা এবং জীবনকে সম্পূর্ণ নিজের পছন্দমতো সাজানোর প্রত্যাশা করা।

Related Articles

Back to top button