দুই বছর পর পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিনামূল্যে সিজারিয়ান সেবা চালু

দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুনরায় চালু হয়েছে সিজারিয়ান অপারেশন সেবা। আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) হাসপাতালটিতে সফলভাবে এক প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে, যার মাধ্যমে জন্ম নিয়েছে একটি কন্যাসন্তান। বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনেই সুস্থ রয়েছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সেবার আওতায় সিজারিয়ান অপারেশনের পুরো প্রক্রিয়াটি তো বটেই, এমনকি রোগীদের ওষুধও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হওয়া প্রসূতির নাম লিজা (৩০)। তিনি পাকুন্দিয়া উপজেলার চণ্ডীপাশা এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা পুনরায় চালু হলো। এর ফলে উপজেলার দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের গর্ভবতী মায়েরা বিনামূল্যে সিজারিয়ান অপারেশনের সুযোগ পেলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মাজহারুল হক উজ্জ্বল বলেন, “দুই বছরের বেশি সময় ধরে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ ছিল। অবশেষে সংসদ সদস্যের প্রচেষ্টায় সেবাটি আবার চালু হওয়ায় দরিদ্র ও অসহায় মানুষের অনেক উপকার হলো।”

পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তাওহীদ উল ইসলাম জানান, দুই সপ্তাহ আগেই অপারেশন থিয়েটার সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়েছিল, তবে রোগী না পাওয়ায় এতদিন অপারেশন করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার প্রথম রোগী পাওয়ায় সফলভাবে অপারেশন সম্পন্ন করা গেছে।

তিনি আরও বলেন, “সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য রোগীদের কোনো ফি বা খরচ দিতে হবে না। হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীন তিন দিনের ওষুধের পাশাপাশি হাসপাতাল ছাড়ার পরের পাঁচ দিনের ওষুধও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে।”

বর্তমানে স্থায়ী গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় আপাতত সপ্তাহে এক দিন—প্রতি মঙ্গলবার সিজারিয়ান অপারেশন করা হবে বলে জানান এই চিকিৎসক। তবে শূন্য পদে নতুন চিকিৎসক নিয়োগ পেলে প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো দিন এই সেবা চালু রাখা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, “প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই অপারেশন থিয়েটার চালুর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগসহ হাসপাতালের অন্যান্য শূন্য পদ পূরণের বিষয়ে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। আশা করছি, অচিরেই এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।”

Related Articles

Back to top button