স্তন ক্যান্সারের এই লক্ষণগুলো অবহেলা করবেন না

ব্যথাহীন পিণ্ড, স্তনবৃন্তের পরিবর্তন, অস্বাভাবিক নিঃসরণ বা ত্বকে গর্তের মতো দাগ (dimpling)—এসব লক্ষণ স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক সতর্কবার্তা হতে পারে। চিকিৎসকরা বারবার সতর্ক করে বলেছেন, কেন এই পরিবর্তনগুলো দ্রুত শনাক্ত করা এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

স্তন ক্যান্সার সবসময় ব্যথা বা স্পষ্ট কোনো পিণ্ডের মাধ্যমে ধরা পড়ে না। অনেক সময় স্তনের ত্বক, স্তনবৃন্ত বা সামগ্রিক আকৃতিতে সূক্ষ্ম কিছু পরিবর্তনই হয়ে ওঠে ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ। নারীদের ঠিক যেসব বিষয়ের প্রতি বিশেষ নজর রাখা উচিত, তা জেনে নেওয়া যাক:

১. ব্যথাহীন নতুন কোনো পিণ্ড

স্তন বা বগলের নিচে নতুন কোনো পিণ্ড বা চাকা দেখা দিলে তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত। এগুলো আশেপাশের টিস্যু থেকে আলাদা মনে হতে পারে এবং প্রাথমিক অবস্থায় এতে কোনো ধরনের ব্যথা নাও থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কোনো পিণ্ড ছাড়াই অনেক সময় স্তনের ত্বক মোটা বা শক্ত হয়ে যেতে পারে। তাই নিয়মিত স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি।

২. স্তনের ত্বকে পরিবর্তন লক্ষ করুন

স্তনের ত্বকে গর্তের মতো দাগ (dimpling), কুঁচকে যাওয়া, লালচে ভাব, আঁশ ওঠা বা ত্বক মোটা হয়ে যাওয়ার মতো পরিবর্তন দেখা দিলে তা সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। বিশেষ করে এসব পরিবর্তন নতুন হলে বা দীর্ঘস্থায়ী হলে সতর্ক হতে হবে। অনেক সময় স্তনের ত্বক দেখতে অবিকল কমলার খোসার মতো অমসৃণ হয়ে যায়। এছাড়া স্তনের স্বাভাবিক আকার বা আকৃতিতে কোনো পরিবর্তন আসলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

৩. স্তনবৃন্তের পরিবর্তনগুলো গুরুত্ব দিন

যদি স্তনবৃন্ত হঠাৎ ভেতরের দিকে ঢুকে যায়, এর স্বাভাবিক অবস্থান পরিবর্তিত হয় কিংবা কোনো অস্বাভাবিক নিঃসরণ দেখা দেয়, তবে দেরি না করে ডাক্তার দেখাতে হবে। স্তন থেকে যদি বুকের দুধ ছাড়া রক্ত বা অন্য কোনো স্বচ্ছ তরল বের হয়, তবে তা অবশ্যই পরীক্ষা করানো উচিত। লজ্জা বা ব্যস্ততার কারণে এই লক্ষণগুলো এড়িয়ে যাওয়া মারাত্মক ভুল হতে পারে।

৪. ব্যথা না থাকলেও সচেতন থাকুন

একটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো, ক্যান্সার হলে স্তনে অবশ্যই ব্যথা হতে হবে। অথচ প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার সাধারণত কোনো ব্যথা ছাড়াই হয়ে থাকে। ব্যথার জন্য অপেক্ষা করতে গেলে চিকিৎসকের কাছে যেতে অনেক দেরি হয়ে যেতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, স্তনে কোনো অস্বাভাবিক চাকা অনুভূত হলে তা ব্যথাহীন হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আত্মসচেতনতাই সুরক্ষার মূল চাবিকাঠি

নারীদের নিজেদের স্তনের স্বাভাবিক গঠন ও অনুভূতি সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। পরিবারের কারও স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে তা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে এবং বয়স ও ঝুঁকির ওপর ভিত্তি করে নিয়মিত স্ক্রিনিং করাতে হবে।

মূল কথা হলো—আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হোন। স্তনে হওয়া বেশিরভাগ পরিবর্তনই ক্যান্সার নয়; তবুও কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে তা নিজে থেকে ঠিক হয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় না থেকে দ্রুত একজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হোন।

Related Articles

Back to top button