কুবি ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পুলিশ হেফাজতে স্বামী

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি ভাড়া বাসা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের (২৪) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার ফারজানাকে নারী নির্যাতনের মামলা প্রত্যাহারের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি আত্মহত্যা। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটনে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ফারজানার স্বামী নাজমুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

রোববার (২৫ অক্টোবর) ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে এক নারী আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি কক্ষটি থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করেছে।

এর আগে শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ফারজানা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ও ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ছিলেন। তার স্বামী নাজমুল ইসলাম একই বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী।

ফারজানার ভাই আরিফুল ইসলামের অভিযোগ, প্রায় তিন বছর আগে জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলামের সঙ্গে ফারজানার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। একপর্যায়ে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায় এবং নাজমুল বিভিন্ন সময়ে ফারজানার পরিবারের কাছ থেকে ৫-৭ লাখ টাকা আদায় করেন। গত বছরের ডিসেম্বরে নির্যাতন সইতে না পেরে ফারজানা বাবার বাড়ি চলে যান এবং নাজমুলের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা করেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সম্প্রতি নাজমুলের পরিবারের আশ্বাসে ও দুই পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে মামলাটি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে সন্দেহ স্বজনদের।

আরিফুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকেও বোনের সঙ্গে তার স্বাভাবিক কথা হয়েছিল। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা ফারজানার মৃত্যুর খবর পান। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এমন ঘটনায় ফারজানার পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছে।

ফতুল্লা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) গাজী সুমন মাহতাব বলেন, “ঘটনাস্থলে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তার স্বামীকে বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”

Related Articles

Back to top button