যে হাসপাতালের পাশে বাবার চায়ের দোকান, সেখানেই চিকিৎসক হতে চান মেয়ে


খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফটকের পাশে চায়ের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা শান্তি লাল চাকমার মেয়ে শৈবা ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন। মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্র্যান্ড ‘নাম্বার ওয়ান’ আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা পাওয়া এই কৃতি শিক্ষার্থীর লক্ষ্য—বাবার চায়ের দোকানের পাশেই অবস্থিত ওই হাসপাতালে একদিন চিকিৎসক হিসেবে কাজ করা।
প্রতিবেদনটির বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো।
শান্তি লাল চাকমা দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালের বাইরে চায়ের দোকান চালিয়ে যে আয় করেন, তা দিয়েই সংসার ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন। মেয়ের এই সাফল্যে আনন্দিত শান্তি লাল জানান, তিনি চান তার মেয়ে চিকিৎসক হয়ে পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই রোগীদের সেবা করুক। হাসপাতালের সামনে দোকান করার সুবাদে একদিন মেয়েকে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসক হিসেবে দেখলে তা তার জীবনের সবচেয়ে গর্বের মুহূর্ত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজে ভর্তি হওয়া শৈবা তার বাবার কষ্টের মর্যাদা দিতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়ার সুদৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পাওয়া এককালীন শিক্ষাবৃত্তি, ক্রেস্ট ও উপহারের পাশাপাশি নাম্বার ওয়ান ব্র্যান্ডের সহযোগিতায় টেন মিনিট স্কুলের একাডেমিক কোর্স করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এসব সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো ফল করার মাধ্যমে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যেতে চান এই শিক্ষার্থী।
মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহ জোগাতে ও তাদের বাবা-মায়ের পরিশ্রমের স্বীকৃতি জানাতে গত তিন বছর ধরে এ আয়োজন করে আসছে নাম্বার ওয়ান। এমজিআইয়ের চিফ অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. রহমতুল্লাহ খোন্দকার জানান, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন পড়াশোনায় পিছিয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার এই প্রয়াস ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।




