মিয়ানমারের শরণার্থীদের পরিচয়পত্র, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে থাইল্যান্ড

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে শরণার্থী শিবিরে জীবনযাপন করা এবং বৈধ কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাইল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের শরণার্থীদের জন্য অবশেষে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।


গত জুলাই মাস থেকে থাই সরকার এই শরণার্থীদের অ-নাগরিক পরিচয়পত্র প্রদান এবং বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া শুরু করেছে। সামরিক বাহিনী ও জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘাতের কারণে থাইল্যান্ডের সীমান্তবর্তী শিবিরগুলোতে মিয়ানমারের প্রায় ৮০ হাজার নাগরিক বসবাস করছেন, যাদের পর্যায়ক্রমে এই পরিচয়পত্রের আওতায় আনা হচ্ছে।

পরিচয়পত্র পাওয়ার পর অনেক তরুণ-তরুণী এখন কৃষি ও নির্মাণ খাতে বৈধ শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রাচিনবুরি প্রদেশের শিবিরের গেই লাহ ও সিত নেইন আয়ে নামের দুই তরুণ-তরুণী জানান, জীবনে প্রথমবারের মতো নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার এই সুযোগ পেয়ে তারা অত্যন্ত আনন্দিত।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর থাই সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে।

মূলত কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতের কারণে প্রায় এক লাখ কম্বোডীয় শ্রমিক থাইল্যান্ড ছেড়ে চলে গেলে দেশটিতে তীব্র শ্রমসংকট দেখা দেয়। এই ঘাটতি পূরণ করতেই স্থানীয় খামার ও শিল্পমালিকেরা মিয়ানমারের শরণার্থীদের কাজে নিয়োগ দেওয়া শুরু করেছেন।

এতে একদিকে যেমন মালিকদের কম পারিশ্রমিকে শ্রমিক পাওয়ার সুবিধা হচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের বন্দিদশা কাটিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন মিয়ানমারের শরণার্থীরা।

Related Articles

Back to top button