খিলক্ষেতে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতার সহযোগীর এআই প্রতারণা ও চাদাবাজির রাজত্ব,

নিজস্ব প্রতিবেদক:রাজধানীর খিলক্ষেতে সরকারি জমি ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা চাঁদাবাজির সাম্রাজ্যে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা মশিউর রহমান মসির সহযোগী মামুন এখন পুরোদমে নিয়ন্ত্রণ করছেন এই চাঁদাবাজির চক্র।


মামুন নিজেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক খিলক্ষেত থানার যুগ্ন আহবায়ক দাবি করে। নিজেকে প্রভাবশালী প্রমাণ করতে বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবির সঙ্গে নিজের ছবি ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ (এআই) প্রযুক্তি দিয়ে এডিট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

কিছুদিন আগে মামুনের আরও সহযোগী চাঁদাবাজি মামলায় খিলক্ষেত থানায় এক মাস জেল খেটে জামিনে আসার পরে এই মামুন পুলিশের বিরুদ্ধে কথা বলে মামুন বলে আমার এই লোকগুলোকে বিনা অপরাধে চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে খিলক্ষেত থানা পুলিশ কোন তদন্ত না করেই এরেস্ট করে চালান করে দেয় এবং মামুন তার সহযোগীদের কে খিলক্ষেত বাজার মেইন রোডে ফুলের মালা দিয়ে জামিনে আসার পরে বরণ করে নেয়।

​স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চাঁদাবাজি মামলায় সম্প্রতি খিলক্ষেত থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও এলাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন মামুন। দল থেকে বহিষ্কার হওয়ায় মশিউর রহমান মসি প্রকাশ্যে না এলেও, তার ক্যাডার বাহিনীর হয়ে আগে তোলা চাঁদার বড় অংশ এখনো সরাসরি রিসিভ করছেন মামুন। স্থানীয়দের দাবি, মসি দৃশ্যপটে না থাকলেও অদৃশ্য থেকে প্রতিটি চাঁদাবাজির একটি মোটা অংশ নিয়মিত তার কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।

​জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী পরিস্থিতিতে মসির নিয়ন্ত্রণাধীন ক্যাডার বাহিনী আরও বেপরোয়া রূপ ধারণ করে। গত দুই বছরে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, একসময় অভাব-অনটনে দিন কাটানো মসির উত্তরপড়ার বটতলা এলাকায় একটি সাধারণ টিনশেড ঘর ছিল। জুলাই ২৪-এর পর হঠাৎ চাঁদার টাকার প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় সেই টিনশেড ভেঙে ইতিমধ্যেই একটি বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন তিনি। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা তুলে নিজ বাসায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি উত্তরপাড়ায় এক মাদ্রাসার সাইনবোর্ড দখল করে ওই এলাকার নাম পরিবর্তনের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

​এদিকে মসি ও তার সহযোগী মামুনের এহেন অপকর্মের পেছনে কোনো বড় ধরনের রাজনৈতিক অভিভাবক বা নেপথ্য আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা রয়েছেন কি না, তা নিয়ে খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় সচেতন মহল ও ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদাররা অবিলম্বে এই এআই প্রতারক ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর আইনি হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন।

Related Articles

Back to top button