গ্যাস সংকটে চট্টগ্রামে কারখানায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে উৎপাদন


চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের ধস নেমেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় রড, পোশাক, জাহাজভাঙা ও স্টিল স্ট্রাকচারসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানায় উৎপাদন স্থবির হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো কারখানায় উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন উদ্যোক্তারা।
একই সঙ্গে লাইনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় নগরীর সিএনজি স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। বাসাবাড়িতেও গ্যাস না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ বাসিন্দারা।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম অঞ্চলে দৈনিক গ্যাসের প্রকৃত চাহিদা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ ২৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও বর্তমানে গড়ে মাত্র ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪৫.৭১ শতাংশ গ্যাসের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
গ্যাস সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে শিল্প খাতে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সীতাকুণ্ডে কেডিএস গ্রুপের কারখানায় গ্যাস সংকটে ফিড ওয়াটার পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলসের (বিএসআরএম) উৎপাদনও স্থগিত রয়েছে। পিএইচপি ও টিকে গ্রুপের একাধিক কারখানায় উৎপাদন বন্ধের উপক্রম হয়েছে। শিল্পমালিকদের মতে, বর্তমানে কারখানাগুলোর সার্বিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে।
শিল্পের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। ২২৫ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় এবং চাপের ঘাটতির কারণে রাউজান ও আনোয়ারাসহ বিভিন্ন এলাকার ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একাধিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট বন্ধ রাখতে হয়েছে।
পরিবহন খাতেও সংকট ছড়িয়ে পড়েছে। সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ না থাকায় চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গ্যাস সংকটের কারণে দেশের শিল্প উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে অর্থনৈতিক ক্ষতি আরও বাড়বে। কেজিডিসিএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বরাদ্দ ও সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।




