গ্যাস-কাঁচামাল সংকটে সার উৎপাদনে বড় ধাক্কা, আমনে সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা

চট্টগ্রামের চারটি সার কারখানার মধ্যে তিনটিতেই উৎপাদনে সংকট দেখা দেওয়ায় আসন্ন আমন মৌসুমে সার সরবরাহ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সার সংকটের বিষয়টি নাকচ করে পর্যাপ্ত মজুত থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে গত ৪ মার্চ থেকে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

প্রধান কাঁচামাল ‘ফসফরিক অ্যাসিড’ সংকটে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডিএপি সার কারখানাটির উৎপাদন গত ২৮ জুন থেকে বন্ধ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় আন্তর্জাতিক সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এ জটিলতা তৈরি হয়েছে।

গ্যাস সরবরাহ সীমিত করায় দেশের বৃহত্তম যৌথ বিনিয়োগের কারখানা কাফকোতেও একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে উৎপাদন চালানো হচ্ছে।

উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার কারণে বোরো চাষ কমে যাওয়ায় কৃষকদের আমন ধানের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। জেলায় চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। কারখানায় উৎপাদন না থাকলে আমনের মাঝামাঝি সময়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামের আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা।

তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (চট্টগ্রাম অঞ্চল) জানিয়েছে, চট্টগ্রামে সারের কোনো ঘাটতি নেই এবং বর্তমানে যে পরিমাণ মজুত আছে তা দিয়ে অন্তত তিন মাসের চাহিদা মেটানো সম্ভব।

কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদও সারের সংকটের বিষয়টিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, দেশে পর্যাপ্ত সারের মজুত রয়েছে এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরদিকে প্রধানমন্ত্রীও শিল্প খাতের গ্যাস সংকটসহ সামগ্রিক সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

Related Articles

Back to top button