ঋণ প্রবাহ বাড়াতে নীতি সুদহার কমাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক


সুমন, ঢাকা: তারল্য সরবরাহ ও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়াতে নীতি সুদহার কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নীতি সুদহার কমানোর এ সিদ্ধান্ত আগামী ২ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।
তারল্য ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মনিটারি পলিসি বিভাগ নীতি সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, বৃহস্পতিবার মনিটারি পলিসি কমিটির (এমপিসি) ১৩তম ও চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও কমিটির সভাপতি মো. মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএ-এর সভাপতিত্বে বোর্ডের মিটিং রুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, আইআরএনএম-এর নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তফা কামাল মুজেরী, বিআইডিএস-এর মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ফেরদৌসী নাহার, বাংলাদেশ ব্যাংকের চিফ ইকোনমিস্ট ড. মোহাম্মদ আক্তার হোসেন এবং নির্বাহী পরিচালক ড. ইমাম আবু সাইদসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপস্থিত সদস্যরা অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, দেশীয় বিনিয়োগ, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শ্লথ গতিধারাসহ আন্তর্জাতিক লেনদেন ভারসাম্য সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন অর্থনৈতিক চলকসমূহের গতিপ্রকৃতি পর্যালোচনার পর নীতি সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তারল্য ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখা এবং সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের মনিটারি পলিসি বিভাগ।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নীতি সুদহার বা রেপো রেট ১০ শতাংশ থেকে দশমিক ৫০ শতাংশীয় পয়েন্ট কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলো যে টাকা ধার করবে, তার সুদহার কমবে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক এবার সম্প্রসারণমূলক মুদ্রা সরবরাহের পথে হাঁটছে।
এছাড়া নীতি সুদহার করিডোরের ঊর্ধ্বসীমা স্ট্যান্ডিং ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) সুদহার ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে দশমিক ৫০ শতাংশীয় পয়েন্ট কমিয়ে ১১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ওভারনাইট রেপো সুদহার ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকবে।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, নীতি সুদহার কমানোর ফলে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তুলনামূলক কম সুদে অর্থ ধার নিতে পারবে। এর ফলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কাছেও ব্যাংকগুলো কম সুদে ঋণ দিতে সক্ষম হবে। এতে ঋণ নেওয়ার আগ্রহ বাড়বে এবং বাজারে অর্থের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে।
তবে অর্থের সরবরাহ ও ভোগ চাহিদা বাড়লে পণ্যের দামও বাড়তে পারে এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণের লক্ষ্য বেশি থাকলেও তা পূরণ হয়নি। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৮ শতাংশ লক্ষ্য ঠিক করা হলেও চলতি বছরের মে মাসে বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
এমন পরিস্থিতিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ দশমিক ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রবৃদ্ধি অর্জনের তুলনায় লক্ষ্য বাড়ানো হয়েছে।



