শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অধিকারভিত্তিক করার আহ্বান

শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অধিকারভিত্তিক করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। ‘শ্রম অভিবাসন বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা-২০২৬’ চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের হোটেল হলিডে ইনে আয়োজিত এক বহুপক্ষীয় পরামর্শ সভায় বক্তারা এই আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিল্‌স), গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘আই সোশ্যাল’ এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) যৌথ উদ্যোগে ও সুইজারল্যান্ডের সহায়তায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এনসিসিডব্লিউই-এর চেয়ারম্যান ও বিল্‌স উপদেষ্টা মেসবাহউদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর।

 প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে। তিনি বিদেশফেরত শ্রমিকদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো, তাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধির চেষ্টার কথা জানান।

 আই সোশ্যালের চেয়ারপারসন ড. অনন্য রায়হান রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেট ভেঙে আগামী ৫ বছরে অন্তত ১০টি নতুন দ্বিপাক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের ওপর জোর দেন।

অভিবাসী নারী কর্মীদের সুরক্ষা, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে পৃথক আইনি কাঠামো গঠন এবং জিসিসি (GCC) দেশগুলোতে নারী শ্রমিকদের জন্য হোস্টেল সুবিধার আহ্বান জানানো হয়।

 বিল্‌স-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, যেহেতু দক্ষিণ এশিয়া থেকেই ৮০ শতাংশ রেমিট্যান্স যোদ্ধা আসেন, তাই শ্রম প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয় থাকা প্রয়োজন।

সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক শ্রম অভিবাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও উচ্চ অভিবাসন ব্যয়, দক্ষতার ঘাটতি এবং ফেরত আসা কর্মীদের পুনরেকত্রীকরণে সহায়তার অভাবের মতো বড় কিছু চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে।

Related Articles

Back to top button