নথিতে পরিত্যক্ত, তবু ৫৪ সরকারি বাসা বরাদ্দ ও উপভাড়া: চট্টগ্রামে দুদকের অভিযান

সরকারি নথিতে পরিত্যক্ত ঘোষিত হলেও সেগুলোতে চলছে বসবাস, দেওয়া হয়েছে বরাদ্দ, এমনকি করা হয়েছে উপভাড়াও (সাবলেট)। চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ সিজিএস কলোনিতে গণপূর্ত বিভাগের পরিত্যক্ত ঘোষিত ৫৪টি সরকারি বাসা ঘিরে এমন নজিরবিহীন অনিয়মের চিত্র পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (২ নভেম্বর) কলোনিটিতে অভিযান চালিয়ে এসব অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পায় দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম। অভিযানে পরিত্যক্ত ঘোষিত বাসায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ চালু থাকার মারাত্মক অনিয়মও উঠে আসে।

দুদকের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এর এনফোর্সমেন্ট টিম সরকারি আবাসন পরিদপ্তর ও গণপূর্ত বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কলোনির বাসাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে। এ সময় দেখা যায়, কোনো প্রকার বরাদ্দপত্র ছাড়াই অবৈধভাবে ব্যক্তি ও পরিবার বসবাস করছে। পাশাপাশি একজনের নামে সরকারি বাসা বরাদ্দ নিয়ে অন্যজনের কাছে সাবলেট দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণও মেলে।

অনুসন্ধানে উঠে আসে, গণপূর্ত বিভাগ কোনো ভবনকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পরও একই ভবনে নিয়মবহির্ভূতভাবে বরাদ্দ দিয়েছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। এতে দুটি সরকারি দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভূমিকা ও যোগসাজশ খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করছে দুদক। পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও কীভাবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ চালু রাখা হলো, তা-ও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। শীঘ্রই এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করবে দলটি।

 এদিকে একই দিনে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নে রাস্তা নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগে পৃথক অভিযান চালিয়েছে দুদকের ঠাকুরগাঁও সমন্বিত জেলা কার্যালয়। অভিযানকালে সিসি ঢালাই কাজের মান পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নকশা ও প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ হয়েছে কি না, তা ল্যাবরেটরি পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর পর্যালোচনার মাধ্যমে কমিশনে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

Related Articles

Back to top button