ইউসিবির ওয়েবভিত্তিক সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্ট প্রকাশ


পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব, সুশাসন এবং টেকসই অর্থায়নের চিত্র তুলে ধরে ২০২৫ সালের সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি)। ‘ট্রান্সফর্মিং ইনটেন্ট ইনটু প্ল্যানেটারি ইমপ্যাক্ট’ শিরোনামে প্রকাশিত এটি ইউসিবির তৃতীয় রিপোর্ট, যা ব্যাংকিং খাতে প্রথমবারের মতো ওয়েবভিত্তিক ইন্টারেক্টিভ সংস্করণে উন্মোচন করা হয়েছে।
সম্প্রতি ব্যাংকের করপোরেট অফিসে অনুষ্ঠিত রিপোর্ট প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউসিবির চেয়ারম্যান শরীফ জহির। আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড আইএফআরএস এস ১ এবং এস ২ অনুসরণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
২০২৫ সালে ইউসিবি ১৭,৯২৭ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা টেকসই অর্থায়ন খাতে বিতরণ করেছে, যা মোট ঋণের ৭২.২৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত ২০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। একই সময়ে পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফাইন্যান্স খাতে ৪৮৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে, যা মেয়াদি ঋণের ৩০.৪০ শতাংশ। বছর শেষে গ্রিন ফাইন্যান্সের বকেয়া স্থিতি দাঁড়ায় ২,৭৪৪ কোটি ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া ইউসিবি ২৭টি LEED সনদপ্রাপ্ত গ্রিন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অর্থায়ন করেছে এবং তৈরি পোশাক খাতে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি রপ্তানি সুবিধা দিয়েছে।
আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেসের সহায়তায় নিজস্ব কার্যক্রমের (স্কোপ ১ ও ২) এবং জয়েন্ট ইমপ্যাক্ট মডেল (JIM) ফাউন্ডেশনের কাঠামো ব্যবহার করে অর্থায়নসংশ্লিষ্ট (স্কোপ ৩) কার্বন নিঃসরণ পরিমাপ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে ইউসিবির অর্থায়নসংশ্লিষ্ট কার্বন নিঃসরণ ছিল ১,৯১২,২১২.০৬ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য (TCO₂e)। প্রতি কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে নিঃসরণের ঘনত্ব ছিল ৩৭.৫২ টন TCO₂e।
বর্তমানে ব্যাংকটির ৩৪টি সৌরবিদ্যুৎচালিত শাখা, ৪টি সোলার এটিএম, ৬৩০টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৫০টি বিশেষায়িত সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স হেল্প ডেস্ক রয়েছে। ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণ দেশের বিভিন্ন খাতে ২ লক্ষাধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, যার প্রায় ৩০ শতাংশই নারী কর্মী। এছাড়া ২০২৫ সালে ইউসিবি জাতীয় কোষাগারে ১৮,০৩০.৫৫ মিলিয়ন টাকা জমা দিয়েছে।
ইউসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ জানান, টেকসই ব্যাংকিংকে তারা দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা ও সুশাসনের মূল ভিত্তি মনে করেন। নতুন ওয়েবভিত্তিক ইন্টারেক্টিভ সংস্করণের মাধ্যমে অংশীজনরা সহজেই ব্যাংকের টেকসই কার্যক্রমের তথ্য দেখতে পাবেন।




