উত্তরখানে রাজউক ইন্সপেক্টর নাজমুলের বিরুদ্ধে কোটি টাকার ‘নোটিশ বাণিজ্যে’র অভিযোগ


নোটিশ দিলেই টাকা, না দিলে ঝুলবে হয়রানির খড়্গ—রাজধানীর উত্তরখান এলাকায় রাজউকের (রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) নোটিশকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এমন এক চক্র। আর এই ‘নোটিশ বাণিজ্যে’র মূল কারিগর হিসেবে আঙুল উঠেছে রাজউকের ইন্সপেক্টর নাজমুলের দিকে। ভবন নির্মাণ কিংবা জমির ফাইল নিষ্পত্তির অজুহাতে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উত্তরখান এলাকায় নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা পুরোনো স্থাপনার কথা বলে হুটহাট রাজউকের নোটিশ ধরিয়ে দেওয়া হয়। নোটিশ পাওয়ার পর ভীতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ সমাধান চাইতে গেলে শুরু হয় আসল খেলা। নোটিশ তুলে নেওয়া কিংবা ঝামেলার নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চুক্তির প্রস্তাব বা চাপ দেওয়া হয়। রাজউকের এই ইন্সপেক্টর নাজমুলের খপ্পরে পড়ে অনেক গৃহপ্রতিনিধি ও মালিক ইতোমধ্যে কোটি টাকা খুইয়েছেন বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।
অভিযোগের থলি ভারী হলেও এই কর্মকর্তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে রাজউকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বিষয়টিকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না। অভিযোগ প্রসঙ্গে রাজউকের অথরাইজড কর্মকর্তা (২/১) মো. হাসানুর জামান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, “এই ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
এদিকে রাজউকের মতো একটি সেবা সংস্থার এমন নোটিশ বাণিজ্যে চরম ক্ষুব্ধ উত্তরখানের বাসিন্দারা। সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধে তারা নোটিশ জারির পুরো প্রক্রিয়া যাচাই করা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত কর্মকর্তা নাজমুল ও তার পেছনের সিন্ডিকেটকে শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।




