নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান


বৃষ্টিপাত কমে গেলেও ডেঙ্গুর ঝুঁকি এখনো কাটেনি জানিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন যে গত বছরের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত থাকতে পারে।
এজন্য এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন এবং নগরবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
গত সোমবার নগরের টাইগারপাসে চসিক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় উপস্থাপিত পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানানো হয় যে চলতি বছরের গত ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার উপজেলাগুলোতে মোট ৫ হাজার ৯৭২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং চট্টগ্রাম বিভাগের অন্যান্য জেলা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আরও ৭০8 জন রোগী রয়েছেন। এই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৮ জন নারী, ৯ জন শিশু ও ৬ জন পুরুষ। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৯১ জন ডেঙ্গু রোগী। মহানগর এলাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৩৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন হালিশহরে, এছাড়া কোতোয়ালীতে ৩৩৪ জন, বন্দরে ৩২৪ জন, পাহাড়তলীতে ৩০৪ জন এবং বাকলিয়ায় ২৫৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। উপজেলা পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি ৮৪৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে সীতাকুণ্ডে, এবং কর্ণফুলীতে ৩২৩ জন ও বাঁশখালীতে ২৩১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া শুধু সেপ্টেম্বরে ২ হাজার ৪৩০ জন এবং অক্টোবরের ২৬ তারিখ পর্যন্ত ২ হাজার ১২৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল সিটি করপোরেশনের কাজের ওপর নির্ভর না করে নগরবাসীকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা ও চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার অনুরোধ জানিয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন যে ফুলের টবের নিচে জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা ও পুরোনো টায়ারের মতো বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে, তাই কোনো অবস্থাতেই পানি জমতে দেওয়া যাবে না।
জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গকে সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান যে শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলোর মধ্যে ডেঙ্গুর লক্ষণ ও প্রতিরোধ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা জরুরি। চসিকের মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে ছোট ওয়ার্ডে তিনজন এবং বড় ওয়ার্ডে পাঁচজন করে মোট প্রায় ১৫০ জন কর্মী কাজ করছেন এবং বিটিএসসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। প্রশাসক এসব কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা, মশার প্রজননস্থল চিহ্নিতকরণ এবং মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ দেন।
পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীদের যথাসময়ে যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিদের অবশ্যই মশারির মধ্যে রাখার ওপর গুরুত্ব দেন, যেন অন্য কারো মধ্যে ভাইরাস ছড়াতে না পারে। সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান এবং ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহিসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




