ইউরোপজুড়ে কেন আন্দোলনে নেমেছে জেন-জি?


সম্প্রতি ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, বেলজিয়াম, আলবেনিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’ ব্যাপক মাত্রায় আন্দোলন শুরু করেছে, যা এসব দেশের শাসক ও অভিজাত গোষ্ঠীকে রীতিমতো উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ক্রমবর্ধমান বাড়িভাড়া, স্কুলের দুর্বল অবকাঠামো, কর্মসংস্থানের অভাব এবং জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের মতো দীর্ঘস্থায়ী ইস্যুতে ইউরোপজুড়ে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি সরকারের কাছ থেকে আরও বেশি সহায়তা এবং কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করছে। যদিও দেশভেদে বিক্ষোভের মূল ইস্যুগুলো ভিন্ন, যেমন—স্পেনে একজন প্রবীণ নারী মারিকারমেন আবাস্কালকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনার প্রতিবাদে তরুণরা রাস্তায় নেমেছে, ফ্রান্সে শিক্ষার্থীরা উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে শিক্ষকদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন, এবং আলবেনিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনারের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি বিলাসবহুল আবাসন প্রকল্প গড়ার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে।
অনেক তরুণ-তরুণী মনে করেন যে তাদের বাবা-মায়ের প্রজন্মের তুলনায় বর্তমানে আবাসন নিশ্চিত করা, ভালো শিক্ষা অর্জন করা এবং একটি স্থিতিশীল চাকরি পাওয়া অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। ফ্রান্সের প্রধান ছাত্র সংগঠন ‘ইউএনইএফ’-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যালিস ডি ব্রিটো জানান যে শিক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের জন্য বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও আবাসন সংকট নিয়ে সব দেশের তরুণেরাই অভিন্ন উদ্বেগের কথা বলছে।
এর পাশাপাশি পরিবর্তনশীল শ্রমবাজার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো নিয়েও তরুণ প্রজন্ম গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বেলজিয়ামভিত্তিক দৈনিক ‘ইউরোপিয়ান করেসপন্ডেন্ট’-এর প্রধান সম্পাদক জুলিয়াস ফিনটেলম্যানের মতে, এই প্রতিবাদগুলো প্রমাণ করে যে ইউরোপের রাজনীতি পরবর্তী প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় তরুণদের মধ্যে তীব্র হতাশা তৈরি হয়েছে।
ফ্রান্সে গত নয় বছর ধরে উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষক সংকট ও স্কুলের দুর্বল অবকাঠামোর বিরুদ্ধে আন্দোলন চললেও মানুষ এখন কেবল আশ্বাসের বাণী শুনে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। ইতালির রোমে শিক্ষার্থীরা বলছেন যে আকাশচুম্বী আবাসন খরচের কারণে তাঁদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে, এবং একই দাবিতে পর্তুগালের লিসবানেও হাজার হাজার মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসনের দাবিতে জড়ো হয়েছেন। ইতালি ও গ্রিসের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা উন্নত বিদ্যালয়, বিনামূল্যে সরকারি শিক্ষা এবং জনসেবামূলক খাতে সরকারি ব্যয় বাড়ানোর দাবি জানিয়ে রাস্তায় নেমেছেন। আলবেনিয়ায় বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিলেও প্রধানমন্ত্রী এদি রামা পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করে এর জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দায়ী করেছেন।
এদিকে জার্মানিতে ‘জেন-জি সব সামলে নেবে’ নামে একটি গোষ্ঠী ৩১ অক্টোবর দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে, স্পেনের ট্রেড ইউনিয়নগুলো আগামী ১১ নভেম্বর সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে, এবং ব্রিটেন ও ইতালির ছাত্র সংগঠনগুলো শিক্ষার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের প্রতিবাদে আগামী ২০ নভেম্বর নতুন কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করছে।




