সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ও পরিবারের বিরুদ্ধে দুদকের দুই মামলা

পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সাবেক প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলাম এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে দুটি পৃথক মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির উপপরিচালক মো. মোজাম্মিল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, মনিরুল ইসলামের শ্যালক রেজাউল আলম শাহীনের নামে ২৩ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার ৫২৬ টাকার নিট সম্পদ রয়েছে, যা তার বৈধ আয়ের সাথে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এছাড়া ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তার নামে থাকা ৪০টি ব্যাংক হিসাবে ৫২৯ কোটি ৯২ লাখ ৮৮ হাজার ৬২৮ টাকা জমা এবং ৫১৭ কোটি ৩৫ লাখ ৪১ হাজার ৯১০ টাকা তোলা হয়েছে। জমা ও উত্তোলন মিলিয়ে এসব হিসাবে মোট ১ হাজার ৪৭ কোটি ২৮ লাখ ৩০ হাজার ৫৩৮ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, যার পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য বৈধ উৎস তিনি দেখাতে পারেননি। দুদকের অভিযোগ, মনিরুল ইসলাম পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত কালোটাকা বৈধ করার উদ্দেশ্যে শ্যালকের নামে এসব সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করেছেন। প্রথম মামলায় সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম, তার স্ত্রী ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব সায়লা ফারজানা এবং শ্যালক রেজাউল আলম শাহীনকে আসামি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দুদকের অনুমোদিত দ্বিতীয় মামলার কেন্দ্রে রয়েছেন রেজাউল আলম শাহীনের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পা। তার নামে ১২ কোটি ৯৭ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৩ টাকার নিট সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, তার বৈধ আয়ের উৎস থেকে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ মাত্র ৬৭ লাখ ১০ হাজার ৭৬১ টাকা এবং অবশিষ্ট ১২ কোটি ৩০ লাখ ৪৯ হাজার ২ টাকার সম্পদের কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। এছাড়া ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সানজিদা খানম টুম্পার নামে থাকা ২৭টি ব্যাংক হিসাবে ৩৩ কোটি ১০ লাখ ৫৫ ৭৮৮ টাকা জমা এবং ২৫ কোটি ৫১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৫৫ টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মোট ৫৮ কোটি ৬২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৪৩ টাকার লেনদেন হয়েছে।

দুদক কর্মকর্তারা জানান, এসব সম্পদ অর্জন ও বিপুল অংকের সন্দেহজনক লেনদেনের পেছনে সাবেক এসবি প্রধানের অবৈধ উপার্জনের সরাসরি যোগসাজশ রয়েছে। মূলত আত্মীয়ের নামে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থের উৎস আড়াল করতেই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় মনিরুল ইসলাম, তার স্ত্রী সায়লা ফারজানা, শ্যালক রেজাউল আলম শাহীন এবং সানজিদা খানম টুম্পার বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।

Related Articles

Back to top button