আসামের বাঙালি মুসলমানদের লড়াই মূলত বাংলাদেশেরই লড়াই: নাহিদ ইসলাম

আসামের নগাঁও ও বিভিন্ন চরাঞ্চলে ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়াকে শুধু কিছু পরিবারের ওপর আক্রমণ নয়, বরং বাঙালি মুসলমানদের ঐতিহাসিক উপস্থিতি ও রাজনৈতিক অস্তিত্ব মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, আসামের বাঙালি মুসলমানদের লড়াই মূলত বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও সার্বভৌমত্বের লড়াই।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

নাহিদ ইসলাম জানান, বিগত কিছুদিনে আসামের নগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় বাংলাভাষী মুসলমানদের ১ হাজার ১০০টিরও বেশি ঘরবাড়ি ও ১০টিরও বেশি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে অন্তত ৩৩টি অভিযানে সেখানে ২২ হাজারের বেশি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি ও অসমীয়া উগ্র জাতীয়তাবাদ এক হয়ে বাংলাভাষী মুসলমানদের চরমভাবে কোণঠাসা করে ফেলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “১০০ বছর আগে নগাঁওতে বাঙালি মুসলমানদের জন্য ‘লাইন প্রথা’ টানা হয়েছিল। শাসক ও ভাষা বদলালেও আজ শত বছর পর সেই নগাঁওতেই আবার নতুন করে বুলডোজার চালানো হচ্ছে।”

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, আসামের করিমগঞ্জ ও বরাক উপত্যকার সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। মওলানা ভাসানী আজ থেকে এক শতাব্দী আগে এই চরাঞ্চলের শোষিত ও নিপীড়িত মানুষের নাগরিক মর্যাদার লড়াইয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন।

সীমান্ত দিয়ে মানুষকে ‘রাষ্ট্রহীন’ করে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল কূটনৈতিক চিঠির মাধ্যমে এ নিপীড়ন বা উচ্ছেদ থামানো সম্ভব নয়। সীমান্তে পুশইন ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বর্তমান সরকারের একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাষ্ট্রহীনতার এই অমানবিক ঝুঁকি নিয়ে জোরালো সোচ্চার হওয়া এবং কোনো পুশইন মেনে না নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দাবি জানান।

আসামের পরিস্থিতির জেরে বাংলাদেশে যাতে কোনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা তৈরি হলে তা আসামের নিপীড়িত মুসলমানদের অবস্থাকে আরও নাজুক করে তুলবে। স্বজাতির এই ঐতিহাসিক লড়াইকে ধারণ করে নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখাই এখন বাংলাদেশের প্রধান দায়িত্ব।

Related Articles

Back to top button