জিয়াউলের আইনজীবীদের জেরার মুখে তদন্ত কর্মকর্তা


আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত শতাধিক গুম-খুনের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের জেরা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই জেরা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আসামিপক্ষে জিয়াউল আহসানের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করছেন আইনজীবী সাহিদুর রহমান, নাজনীন নাহারসহ একটি আইনজীবী প্যানেল।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষের ১৫তম সাক্ষী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের জবানবন্দি শেষ হয়। টানা তিন দিনের সাক্ষ্যে তিনি সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্ম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তুলে ধরেন। ট্রাইব্যুনালে তিনি জানান, বিচারবহির্ভূত কোনো হত্যাকাণ্ড জনসম্মুখে চলে এলে তা বৈধতা দিতে লোকদেখানো প্রশাসনিক তদন্ত করা হতো এবং প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে মিথ্যা ময়নাতদন্ত ও পুলিশ রিপোর্ট প্রস্তুত করতে বাধ্য করা হতো।
তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজকের দিনটি জেরার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বর এই তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছিল। এ মামলায় সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে: ১. ২০১১ সালের ১১ জুলাই গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে জিয়াউলের উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা। ২. ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটায় বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল ও মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যা। ৩. একই সময়ের মধ্যে বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন অঞ্চলে বনদস্যু দমনের আড়ালে মাসুদসহ আরও ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ।
উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধের এসব অভিযোগের মামলায় গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর জিয়াউলের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আমলে নেওয়া হয় এবং ২৩ ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১।




