রাতে ত্বকে বেশি চুলকানি হওয়ার কারণ ও প্রতিকার

লাইফস্টাইল ডেস্ক: সারাদিন ত্বক স্বাভাবিক থাকলেও অনেকেরই রাতে চুলকানির মাত্রা বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি মূলত শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি (সার্কাডিয়ান ছন্দ), শারীরিক পরিবর্তন এবং কিছু মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ের সম্মিলিত ফল।

রাতে চুলকানি বাড়ার মূল কারণসমূহ:

  • কর্টিসলের মাত্রা হ্রাস: প্রাকৃতিকভাবেই রাতে প্রদাহ-বিরোধী হরমোন ‘কর্টিসল’-এর মাত্রা কমে যায়। ফলে ত্বকের প্রদাহ ও চুলকানির সংকেত আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

  • ত্বকের সুরক্ষা প্রাচীর দুর্বল হওয়া: রাতে ত্বক থেকে পানি বা আর্দ্রতা দ্রুত বের হয়ে যায় (TEWL বৃদ্ধি পায়)। ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে ওঠে এবং একজিমা, সোরিয়াসিস বা শুষ্ক ত্বকের রোগীদের চুলকানির অনুভূতি বাড়ে।

  • শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি: ঘুমানোর সময় উষ্ণ বিছানা, ভারী কম্বল বা গরম পোশাকের কারণে ত্বকের উপরিভাগের তাপমাত্রা বাড়ে, যা চুলকানি সৃষ্টিকারী স্নায়ু পথকে সক্রিয় করে তোলে।

রাতের চুলকানি এড়াতে করণীয়:

  • নিয়মিত ময়েশ্চারাইজ করা: ঘুমানোর ঠিক আগে ত্বক উপযোগী ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত।

  • তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা: শোবার ঘর ঠান্ডা রাখা এবং খুব বেশি গরম পানি দিয়ে গোসল করা এড়িয়ে চলা দরকার।

  • আরামদায়ক পোশাক: হালকা, সুতি ও বায়ু চলাচল করে এমন পাতলা পোশাক পরা উচিত।

  • পণ্য পরীক্ষা: নতুন কোনো ডিটারজেন্ট, সুগন্ধি বা প্রসাধন সামগ্রী থেকে অ্যালার্জি হচ্ছে কি না তা পরীক্ষা করা।

  • চুলকানো বন্ধ করা: ত্বক অতিরিক্ত চুলকালে সুরক্ষা স্তর আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাই তা এড়িয়ে চলতে হবে।

দীর্ঘস্থায়ী বা গুরুতর ত্বকের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে ওষুধ গ্রহণ বা চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

Related Articles

Back to top button