সময়ের আগে পিরিয়ড হওয়ার কারণ ও করণীয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক: নির্দিষ্ট তারিখের কয়েক দিন আগে পিরিয়ড বা মাসিক শুরু হওয়া মানেই যে কোনো জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তা নয়।

সাধারণত একটি স্বাভাবিক মাসিক চক্র ২১ থেকে ৩৫ দিন স্থায়ী হতে পারে। ফলে ২-৩ দিন আগে পিরিয়ড হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। তবে এটি ধারাবাহিকভাবে ঘটতে থাকলে বা হঠাৎ বড় কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

সময়ের আগে পিরিয়ড হওয়ার সম্ভাব্য কারণসমূহ:

  • মানসিক চাপ ও ঘুমহীনতা: অতিরিক্ত কাজের চাপ, মানসিক অশান্তি ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ডিম্বস্ফোটন নিয়ন্ত্রকারী প্রজনন হরমোনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করে।

  • ওজনের আকস্মিক পরিবর্তন: দ্রুত ওজন কমা বা বাড়া এবং অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে প্রজনন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।

  • ব্যায়ামের ধরন পরিবর্তন: পুষ্টির অভাব রেখে হঠাৎ ভারী ব্যায়াম বা কায়িক পরিশ্রম শুরু করলে শরীরের হরমোনে প্রভাব পড়ে।

  • ভ্রমণ ও দৈনন্দিন রুটিন বদল: দীর্ঘ ভ্রমণ, জেট ল্যাগ বা রাত জাগার ফলে শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়ি বা হরমোনের ছন্দে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে।

  • হরমোনযুক্ত গর্ভনিরোধক: জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি বা ইনজেকশন গ্রহণ শুরু, বন্ধ বা পরিবর্তন করার প্রাথমিক মাসগুলোতে রক্তপাতের ধরন বদলে যেতে পারে।

  • পেরিমেনোপজ: সাধারণত চল্লিশের কোঠায় পৌঁছালে মেনোপজের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে মাসিক চক্রের সময় পরিবর্তন বা অনিয়মিত হতে পারে।

  • স্বাস্থ্যগত জটিলতা: থাইরয়েডের সমস্যা, পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (PCOS), ডিম্বস্ফোটনের সমস্যা, জরায়ুর ফাইব্রয়েড বা পলিপ থাকলে বারবার সময়ের আগে রক্তপাত হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

যদি আপনার মাসিক চক্র নিয়মিত ২১ দিনের কম সময়ের ব্যবধানে হতে থাকে কিংবা দুই মাসিকের মধ্যবর্তী সময়ে বারবার রক্তপাত দেখা দেয়, তবে বিলম্ব না করে বিশেষজ্ঞ স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের (গাইনি) শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।

Related Articles

Back to top button