বিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মের খোঁজে দুদক

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবায় নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। হাসপাতালে রোগীদের সেবা প্রাপ্তিতে ভোগান্তি ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এই অনুসন্ধানের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি বিধি অনুযায়ী অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুদক দিনাজপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে দুদকের দিনাজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে। সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত সেই অভিযানে প্যাথলজি, এক্স-রে, ইনডোর ওয়ার্ড এবং রোগীদের খাবার সরবরাহসহ প্রায় প্রতিটি বিভাগেই ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ মেলে।

অভিযানে দেখা যায়, সরকারি হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ অকার্যকর রেখে কর্মকর্তারা বাইরে নিজস্ব ডায়াগনস্টিক ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। প্যাথলজির মেডিকেল টেকনোলজিস্ট শাহ্ আল এমরানের বাবার নামে ‘রাজু ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ এবং ল্যাব টেকনোলজিস্ট ইয়াসিন আলীর স্ত্রীর নামে ‘নাজমা ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ খোলার তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়।

তাছাড়া রোগীদের সরকারি নির্ধারিত খাবারের পরিবর্তে নিম্নমানের খাবার সরবরাহ, স্টোররুমে সরকারি ওষুধপত্র ও মালামালের হিসাব না রাখা এবং হাসপাতালে বহিরাগত দালাল ও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অপতৎপরতার সত্যতা পায় এনফোর্সমেন্ট টিম। ওই সময় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও দায়িত্বরতদের কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছিল।

দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানায়, আগের এনফোর্সমেন্ট অভিযানে প্রাপ্ত তথ্যাদি ও সার্বিক অনিয়মের বিষয়টি পর্যালোচনা করেই এবার পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

Related Articles

Back to top button