১৪ বছরেও চালু হয়নি, এবার ভাঙা হবে ‘বিআরটি’

দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে নির্মাণ কাজ চালিয়ে ২ হাজার ৮১১ কোটি টাকা ব্যয়ের পরও চালু করা যায়নি দেশের প্রথম বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) সড়ক। অবশেষে গাজীপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত নির্মিত এই বিশেষ সড়কের অবকাঠামো ভেঙে সেটিকে সাধারণ ছয় লেনের মহাসড়কে রূপান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

একইসঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘ঢাকা বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট পিএলসি’ বিলুপ্ত করে এর সার্বিক কার্যক্রম সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) আওতায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত রোববার (১৮ অক্টোবর) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরদিন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব তাসলিমা আহমেদ পলির স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিআরটি লেনের স্টেশন ও বিভাজক অপসারণ করে সড়কটিকে উভয় দিকে তিন লেন করে মোট ছয় লেনের সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তর করা হবে এবং দুটি ওভারপাসকে চার লেনে উন্নীত করা হবে।

২০১২ সালে ৪ হাজার ২৬৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা বাজেটে ১২ বছর মেয়াদে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের হিসাব অনুযায়ী ভৌত অগ্রগতি ছিল ৭৭.৪৮ শতাংশ এবং অবকাঠামোগত কাজ শেষ হয়েছিল ৯৭ শতাংশ। তবে মূল উদ্দেশ্য অর্থাৎ দ্রুতগতির বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করা সম্ভব হয়নি।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীরা। ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) অধ্যাপক ড. মো. খসরু মিয়া প্রশ্ন তুলে বলেন, “মেট্রোরেলে সরকার শত শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে পারলে বিআরটি চালুর ক্ষেত্রে অনীহা কেন? এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাব রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার।”

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তকে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণপরিবহনের ইতিহাসে ‘কালো দিন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সংস্থাটির দাবি, এই সিদ্ধান্তটি ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক ও নির্মাণ খাতের লবির স্বার্থ রক্ষা করবে, যা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থী। বিআইপি অবিলম্বে এই বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে বিআরটি চালু রাখার দাবি জানিয়েছে।

Related Articles

Back to top button