বিয়ের ৬ দিনের মাথায় নববধূর মৃত্যু, স্বামী-শাশুড়ি আটক

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বিয়ের মাত্র ছয় দিনের মাথায় লিমা আক্তার (২০) নামে এক নববধূর মৃত্যু হয়েছে। বাবার বাড়ি থেকে পাঠানো জিনিসপত্র পছন্দ না হওয়ায় তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী একরামুল হক (২২) ও শাশুড়ি ফরিদা বেগমকে (৫০) আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোররাতে নালিতাবাড়ী উপজেলার রূপনারায়ণকুড়া ইউনিয়নের পাইখাতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত লিমা পাশের হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা ইউনিয়নের মাঝিয়াইল গ্রামের সাইদুল ইসলামের ছোট মেয়ে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ অক্টোবর ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে পারিবারিকভাবে একরামুলের সঙ্গে লিমার বিয়ে হয়। গত রোববার স্বামীর সঙ্গে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পর মঙ্গলবার বিকেলে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসেন তারা। স্বজনদের অভিযোগ, বাবার বাড়ি থেকে দেওয়া জিনিসপত্র নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়। পরে রাত ৩টার দিকে লিমার অসুস্থতার কথা জানানো হয় এবং ভোর ৪টার দিকে তাকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. ফাহাদ রহমান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই নববধূর মৃত্যু হয়েছিল।

লিমার স্বজনদের দাবি, জিনিসপত্র পছন্দ না হওয়াকে কেন্দ্র করে শারীরিক নির্যাতন ও শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে, স্বামী একরামুলের দাবি, রাতের বেলা ঘরের পাশের একটি সেমিপাকা ঘরের সানশেডে ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থা থেকে তিনি স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেন।

নালিতাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক আব্দুল হান্নান জানান, নববধূর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার সত্যতা উন্মোচনে স্বামী ও শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

Related Articles

Back to top button