মেসিকে ছাড়িয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে এমবাপে, আরও যত রেকর্ড

অ্যাটলাস লায়ন–খ্যাত মরক্কোকে বিদায় করে আবারও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মঞ্চে বর্তমান রানার্স-আপ ফ্রান্স। অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে ও উসমান দেম্বেলের একটি করে গোলে ফরাসীদের জয়রথ সচল রয়েছে। এই ম্যাচটিতে দুই দলের খেলোয়াড়রা অনন্য কিছু রেকর্ড নিজেদের নামে করে নিয়েছেন।
এই বিশ্বকাপে এমবাপের গোলসংখ্যা এখন ৮টি। মেসির গোলও ৮টি হলেও ৩টি অ্যাসিস্ট নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে মেসিকে (১ অ্যাসিস্ট) ছাড়িয়ে শীর্ষে আছেন এমবাপে।
বিশ্বকাপে এমবাপের ক্যারিয়ার গোলসংখ্যা এখন ২০টি, যা ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২১ গোল নিয়ে শীর্ষে আছেন লিওনেল মেসি।
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৮টি ম্যাচের জয়সূচক গোল করেছেন এমবাপে, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ।
বিশ্বকাপে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো একই ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট করলেন এমবাপে। গত ৬০ বছরে তার চেয়ে বেশি (৫ বার) এই কীর্তি আছে শুধু মেসির।
১৯৬৬ সালের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে ১০ বা তার বেশি গোলে অবদান রাখলেন তিনি (২০২২ আসরে ১০টি ও ২০২৬ আসরে এখন পর্যন্ত ১১টি)।
গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমবাপের মোট অবদান এখন ১৪টি গোল। গত ৬০ বছরে যা মেসির সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ।
ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে ১০০ বা তার বেশি গোলে অবদান রাখা প্রথম ফুটবলার হলেন এমবাপে (১০১টি—৬৪ গোল ও ৩৭ অ্যাসিস্ট)।
ফ্রান্সের হয়ে টানা ১৫টি পেনাল্টি সফলভাবে মারার পর এবারই প্রথম স্পটকিকে ব্যর্থ হলেন এমবাপে।
উসমান দেম্বেলে তাঁর বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ৫ম গোলটি করলেন, যার প্রতিটিই এসেছে এই ২০২৬ আসরে। এর আগের দুই আসরে (২০১৮ ও ২০২২) তিনি কোনো গোল পাননি।
এমবাপের ৮ গোল এবং দেম্বেলের ৫ গোল—একই বিশ্বকাপে পাঁচ বা তার বেশি গোল করা সতীর্থ জুটির মধ্যে এটি ২০০২ সালের পর প্রথম ঘটনা। সেবার ব্রাজিলের রোনালদো (৮) ও রিভালদো (৫) এই কীর্তি গড়েছিলেন।
এবারের বিশ্বকাপে এমবাপে, দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসে মিলে এখন পর্যন্ত ২৩টি গোলে অবদান রেখেছেন। যা ২০০২ সালের ব্রাজিলের বিখ্যাত ত্রয়ী—রোনালদো, রিভালদো ও রোনালদিনহোর (২০টি) চেয়ে ৩টি বেশি।
জার্মানি ও ব্রাজিলের পর ইতিহাসে তৃতীয় দল হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপের (২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬) সেমিফাইনালে ওঠার কীর্তি গড়ল ফ্রান্স। এটি ফরাসীদের ৮ম সেমিফাইনাল।
কোচ দিদিয়ের দেশমের অধীনে এটি এমবাপের ২০তম বিশ্বকাপ ম্যাচ, একই কোচের অধীনে কোনো খেলোয়াড়ের জন্য যা সর্বোচ্চ।
বিশ্বকাপে ফ্রান্সের জয়ের সংখ্যা এখন ৪৫, যা ইতালির সমান যৌথভাবে চতুর্থ সর্বোচ্চ।
১৮ বছর ২৮০ দিন বয়সে মরক্কোর আইয়ুব বুয়াদ্দি বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা ইতিহাসের দ্বিতীয় কনিষ্ঠ ফুটবলার। ১৭ বছর ২৩৯ দিন বয়সে খেলে এখনও শীর্ষে আছেন পেলে (১৯৫৮)।
প্রথমার্ধে এমবাপের পেনাল্টি শট ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো। ১৯৬৬ সালের পর (টাইব্রেকারসহ) বিশ্বকাপে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৪টি পেনাল্টি সেভের কীর্তি এখন তাঁর।



