সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক ছাড়লেন ১৫০ পর্যটক

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধস ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে আটকে পড়া ৫৬১ জন পর্যটকের মধ্যে ১৫০ জন সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদে সাজেক ত্যাগ করেছেন। বাকি ৪১১ জন পর্যটককে পর্যায়ক্রমে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জেলা প্রশাসকের মিডিয়া সেলে নেজারত শাখার ডেপুটি কালেক্টর শেখ সালমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গত ছয় দিনের টানা বর্ষণে পাহাড়ি ঢল ও মাইনী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা এবং লংগদু-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। পাশাপাশি কয়েকটি স্থানে পাহাড়ধস এবং সড়কের মাটি সরে যাওয়ায় সাজেকের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ফলে গত ৭ জুলাই থেকে সেখানে অবস্থানরত শত শত পর্যটক আটকে পড়েন।
এর আগে টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধসের আশঙ্কা এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার ঝুঁকি বিবেচনা করে গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে সাজেকের সব পর্যটনকেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ পূর্বাভাস এবং সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণের কারণে রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন স্থানে ভূমিধস, পাহাড়ধস ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে নতুন করে কোনো পর্যটক সাজেকে প্রবেশ করতে পারেননি।
আটকে পড়া পর্যটকদের দুর্ভোগ ও আর্থিক ক্ষতি কমাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় রিসোর্ট মালিক সমিতি। সাজেক কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেক জানিয়েছে, আটকে পড়া পর্যটকদের রুম ভাড়ার ক্ষেত্রে বড় ছাড় দিয়ে তাদের কাছ থেকে শুধু পানি ও ইউটিলিটি বিল নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় খাবারের দোকানগুলোকে সীমিত মূল্যে খাবার সরবরাহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।



