অনন্তলোকে গ্র্যামিজয়ী শিল্পী বনি টাইলার, মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর

‘টোটাল ইক্লিপ্স অব দ্য হার্ট’ খ্যাত ওয়েলসের কিংবদন্তি পপ ও রক গায়িকা বনি টাইলার আর নেই। পর্তুগালের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। বনি টাইলারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তার পরিবার ও টিমের পক্ষ থেকে দুঃখজনক এই খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে জানানো হয়:

“অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বনির পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে জানাচ্ছি যে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রাতে পর্তুগালের একটি হাসপাতালে আকস্মিকভাবে বনি মারা গেছেন।”

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মে মাসে পর্তুগালে জরুরি অন্ত্রের অস্ত্রোপচারের পর বনি টাইলারকে কৃত্রিম কোমায় (আর্টিফিশিয়াল কোমা) রাখা হয়েছিল। গত মাসে তার মুখপাত্র জানান যে, কোমা থেকে ফিরে এলেও তিনি অত্যন্ত অসুস্থ ছিলেন এবং আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

বনি টাইলারের প্রয়াণে বিশ্বসংগীত অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার রুন আপ ইয়োরওয়ার্থ গভীর শোক প্রকাশ করে বনি টাইলারকে এক ‘প্রকৃত আইকন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ওয়েলশ সেক্রেটারি জো স্টিভেন্স শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন,

“তিনি ওয়েলশ সংগীতের এক আইকন, গ্র্যামি ও ব্রিট পুরস্কার বিজয়ী এবং আমার কৈশোরের কণ্ঠস্বর।”

খ্যাতিমান ব্রিটিশ সংগীত প্রযোজক পিট ওয়াটারম্যান বনির কণ্ঠকে কিংবদন্তি টিনা টার্নারের সঙ্গে তুলনা করে বিবিসিকে বলেন,

“তার অসাধারণ এক কণ্ঠ ছিল এবং আমার মতে তিনি টিনা টার্নারের সমকক্ষ ছিলেন। টম জোন্স যেমন ব্রিটেনের সবচেয়ে কাছের সোল স্টার ছিলেন, বনিও ঠিক তাই ছিলেন।”

১৯৫১ সালে ওয়েলসের নিথ-এ ‘গেনর হপকিন্স’ নামে জন্ম নেওয়া এই গায়িকার পথচলা শুরু হয়েছিল একেবারেই সাধারণ পরিবার থেকে। ১৯৭৭ সালে মুক্তি পায় তার প্রথম একক গান ‘লস্ট ইন ফ্রান্স’। একই বছর ‘ইটস আ হার্টঅ্যাক’ গানটি দিয়ে তিনি ইউকে এবং ইউএস চার্টের শীর্ষ তালিকায় উঠে আসেন।

তবে ১৯৮৩ সালে মুক্তি পাওয়া জিম স্টেইনম্যানের লেখা ‘টোটাল ইক্লিপ্স অব দ্য হার্ট’ গানটি তাকে বিশ্বজোড়া খ্যাতি এনে দেয়। প্রথম ওয়েলশ শিল্পী হিসেবে আমেরিকার বিলবোর্ড চার্টের শীর্ষস্থান দখল করার ইতিহাস গড়েন তিনি। এই গানের জন্য তিনি গ্র্যামি মনোনয়নও পেয়েছিলেন।

চলতি বছরই এই ঐতিহাসিক গানটি স্পটিফাইতে ১ বিলিয়নেরও বেশি (১০০ কোটি) স্ট্রিমের মাইলফলক স্পর্শ করে। ২০২৩ সালে সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য ব্রিটিশ রাজপরিবারের কাছ থেকে মর্যাদাপূর্ণ ‘এমবিই’ খেতাব পান বনি। চলতি বছরের জুনে ও ডিসেম্বরেও তার একাধিক কনসার্ট করার কথা ছিল, কিন্তু তার আগেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন এই গায়িকা।

Related Articles

Back to top button