টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের বহু এলাকা বিদ্যুৎহীন, চরম ভোগান্তিতে ৭১ হাজার এইচএসসি পরীক্ষার্থী

টানা ভারী বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও টানা দুই দিন, আবার কোথাও তিন দিন ধরে বিদ্যুৎহীন রয়েছে অসংখ্য গ্রাম। এতে জনজীবনের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা।
বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্কের সংকটের কারণে পড়ালেখা ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। বিশেষ করে চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলার ৭১ হাজার ১১৬ জন পরীক্ষার্থী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুলাই শুরু হওয়া ২০২৬ সালের এইচএসসি, এইচএসসি (বিএম/ভোকেশনাল) ও আলিম পরীক্ষায় চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে এবার মোট ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। ১১৪টি কেন্দ্রে ২৮৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন।
এদিকে, বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার বুধবারের (৮ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। বুধবারের পরীক্ষা স্থগিত হলেও, পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী আগামী ১১ জুলাই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় এই বিষয়ের প্রস্তুতি নেওয়া পরীক্ষার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামের আনোয়ারা, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, পটিয়া, বোয়ালখালী, সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও ফটিকছড়িতে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি ও সাতকানিয়ার বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ায় ৩৩ কেভি প্রধান সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাতকানিয়া উপজেলায় বুধবার সকাল থেকে পল্লী বিদ্যুৎ ও পিডিবির সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের মোমবাতির আলোয় পড়তে হচ্ছে এবং মোবাইল বা পাওয়ার ব্যাংক চার্জের অভাবে তারা অনলাইন থেকে প্রয়োজনীয় নোট ও ক্লাসের উপকরণ সংগ্রহ করতে পারছেন না। পটিয়া সরকারি কলেজের পরীক্ষার্থী বেলাল হোসেন ও বাকলিয়া শহীদ নূর হোসেন ডিগ্রি কলেজের মো. আরফাত জানান, পরীক্ষার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দিনের পর দিন বিদ্যুৎ না থাকায় এবং ধীরগতির কারণে তাদের শিক্ষাজীবনের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার নুর মোহাম্মদ জানান, টানা ভারী বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়ছে, খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং তার ছিঁড়ে যাচ্ছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রকৌশলী ও লাইনম্যানরা ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করছেন।
তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন:
“অনেক ক্ষেত্রে বৈরী আবহাওয়া ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কারণ বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা বা প্লাবন থাকলে বিদ্যুৎ চালু করলে বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। যেসব এলাকায় পানি জমে গেছে, সেখানে নিরাপদ পরিবেশ না পাওয়া পর্যন্ত মেরামতকাজ ব্যাহত হচ্ছে। কর্মী ও গ্রাহকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই আমাদের কাজ করতে হচ্ছে।”
আবহাওয়া অনুকূলে এলে ক্ষতিগ্রস্ত সব লাইন মেরামত করে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে জানিয়ে তিনি গ্রাহকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কোথাও বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে থাকতে দেখলে, তা থেকে দূরে থেকে দ্রুত পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করেন।



