শ্রেণিকক্ষে নাপিত ডেকে শিক্ষার্থীদের চুল কাটালেন সাবেক সভাপতি, স্কুলে হট্টগোল

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের কিসমত আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন উদ্যোগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মামুনুর রশিদ যুক্তি কয়েকজন শিক্ষার্থীকে একটি শ্রেণিকক্ষে ডেকে নেন। এরপর পাশের বাজার থেকে দুজন নাপিত এনে শ্রেণিকক্ষের ভেতরেই জোর করে শিক্ষার্থীদের চুল কাটানো শুরু করেন।
এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ে এসে তীব্র প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে অভিভাবকদের সঙ্গে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়, যা পরবর্তীতে হাতাহাতি ও হট্টগোলে রূপ নেয়।
জোরপূর্বক চুল কাটার শিকার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফিন হোসেন জানায়:
‘আমাদের কয়েকজন বন্ধুকে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক চুল কেটে দেওয়া হয়েছে।’
আরেক শিক্ষার্থী সাকিন হোসেন বলে, ‘পাশের বাজার থেকে নাপিত ডেকে এনে আমাদের না জানিয়েই এভাবে চুল কেটে দেওয়া হয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মামুনুর রশিদ যুক্তি বলেন:
“গত বুধবার অভিভাবকদের নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, যারা এলোমেলোভাবে চুল রাখে, তাদের চুল পরিপাটি করে কেটে দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন অসংগতিপূর্ণ লেখা সংবলিত মাস্ক পরে বিদ্যালয়ে আসাও বন্ধ করা হবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই আমি বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এই উদ্যোগটি নিয়েছি।”
হাতাহাতির বিষয়ে তিনি দাবি করেন, একজন অভিভাবক এসে অনর্থক উত্তেজনা সৃষ্টি করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
কিসমত আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুজ্জামান হিরোক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, যা মোটেই কাম্য ছিল না। তবে সাবেক সভাপতি বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা রক্ষার উদ্দেশ্যেই উদ্যোগটি নিয়েছিলেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করছি এবং দ্রুত বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করছি।”
শৈলকূপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (UNO) ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহফুজুর রহমান জানান:
“প্রধান শিক্ষক বিকেলে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। পরে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়েছে। এ বিষয়ে আমার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি।”



