ভাইভা না দিয়েও চূড়ান্ত তালিকায় নাম, কর্তৃপক্ষ বলছে ‘তথ্যগত ত্রুটি’


যশোরের ঝিকরগাছায় ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬’-এর সুপারভাইজার ও তথ্যসংগ্রহকারী পদে নিয়োগে চরম অনিয়ম ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে।
ভাইভায় অংশ না নিয়েও একাধিক প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়া, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের পদধারী নেতা ও নৌকার নির্বাচনী এজেন্টের নাম তালিকায় দেখায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ও মেধাবী নিয়োগপ্রত্যাশীরা।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার ফেসবুক আইডিতে ফলাফলের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।
ফলাফল প্রকাশের পর পানিসারা ইউনিয়নের মনিরুল ইসলাম নামের এক প্রার্থী ভাইভা না দিয়েও চূড়ান্ত তালিকায় মনোনীত হন বলে অভিযোগ ওঠে। তীব্র সমালোচনার মুখে প্রকাশের তিন ঘণ্টার মধ্যে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক ‘সংশোধনী’ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ‘তথ্যগত ত্রুটি’র অজুহাতে মনিরুলের নাম বাতিল করে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। তবে অন্যান্য প্রার্থীর দাবি, পরীক্ষা না দিয়ে টিকে যাওয়ার ঘটনা কেবল একটি নয়, একাধিক।
নিয়োগপ্রত্যাশীদের মধ্যে জুলাই যোদ্ধা রাকিবুল ইসলাম রাকিব, বৈষম্যের শিকার হওয়া শফিকুল ইসলামসহ অনেকে অভিযোগ করেছেন, নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে। এছাড়া গদখালী ইউনিয়নের অপেক্ষমাণ তালিকায় সাবেক নৌকার প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট জনি হোসেন ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলামের নাম উঠে এসেছে।
এসব অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিটির সভাপতি সাফফাত আরা সাঈদ জানান, ফেসবুকে কে কী লিখল তা তাঁর জানা নেই এবং নিয়োগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে হয়েছে। তবে প্রয়োজন মনে করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তদন্ত করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।




