ঘুম থেকে ওঠার এক ঘণ্টার মধ্যেই কি সকালের খাবার খেতে হবে?

সকালের নাস্তাকে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার বলা হয়ে থাকে। তবে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এর সঙ্গে নতুন একটি নিয়ম বেশ চর্চায় এসেছে— ঘুম থেকে ওঠার ঠিক এক ঘণ্টার মধ্যেই নাকি সকালের নাস্তা খেয়ে নিতে হবে, নইলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে! কিন্তু সত্যিই কি এমন কোনো জাদুকরী ৬০ মিনিটের বৈজ্ঞানিক সময়সীমা আছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর উত্তর সম্পূর্ণ নির্ভর করে ব্যক্তির শরীরের ওপর, যা মানুষভেদে ভিন্ন হয়। কিছু মানুষ তীব্র ক্ষুধা নিয়ে ঘুম থেকে ওঠেন এবং তাদের দ্রুত খাবারের প্রয়োজন হয়। আবার অনেকে প্রথম খাবারটি গ্রহণের আগে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

ঘুমের সময় শরীরে কী ঘটে?

আমরা যখন ঘুমাই, তখন আমাদের শরীর পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় না। এটি সারারাত ধরে শ্বাস-প্রশ্বাস সচল রাখা, কোষ ও ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামত, হরমোন নিয়ন্ত্রণ এবং হৃৎস্পন্দন সচল রাখার মতো কাজগুলো নীরবে করে চলে। যেহেতু এই দীর্ঘ সময়ে বাইরে থেকে কোনো খাবার গ্রহণ করা হয় না, তাই শরীর সচল থাকতে তার সঞ্চিত শক্তির ওপর নির্ভর করে।

ফলস্বরূপ, সকালের দিকে রক্তে শর্করার (ব্লাড সুগার) মাত্রা আগের সন্ধ্যার তুলনায় কিছুটা কম থাকতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এর কারণে ক্ষুধা, ক্লান্তি বা শক্তি কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। আবার অনেকে কোনো খাবার ছাড়াই বেশ সতেজ ও উদ্যমী বোধ করে ঘুম থেকে ওঠেন। মূলত, সকালের নাস্তা আমাদের মস্তিষ্ক ও পেশীগুলোকে প্রয়োজনীয় শক্তি জুগিয়ে মনোযোগ বাড়াতে এবং শক্তিশালী করে তুলতে সাহায্য করে।

এক ঘণ্টার নিয়মটি কি আসলেই বিজ্ঞানসম্মত?

ঘুম থেকে ওঠার এক ঘণ্টার মধ্যে খাওয়ার পরামর্শটি সামাজিক মাধ্যমে বেশ জনপ্রিয় হলেও, এমন কোনো সার্বজনীন বৈজ্ঞানিক নিয়ম নেই যা একে সমর্থন করে। একটি বৃহৎ সমীক্ষায় দেখা গেছে, বয়স, বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) এবং বিদ্যমান স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর নির্ভর করে সকালের নাস্তার অভ্যাস ও সময় একেকজনের শরীরে একেকভাবে প্রভাব ফেলে।

বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে বলেছেন, আমরা ঠিক কখন সকালের নাস্তা খাচ্ছি, তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো নাস্তায় আমরা কী খাচ্ছি। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম খাবারের আগে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। তাই শুধু ঘড়ির কাটার দিকে তাকিয়ে না খেয়ে, নিজের শরীরের চাহিদা ও ক্ষুধার সংকেত বুঝে খাবার খাওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

Related Articles

Back to top button