কূটনৈতিক টানাপোড়েনে আখাউড়া স্থলবন্দরে বাড়েনি রপ্তানি আয়, কমেছে রাজস্ব

সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরে রপ্তানি আয় আশানুরূপ বাড়েনি। গত অর্থবছরে বন্দরটি দিয়ে রপ্তানি আয় বেড়েছে মাত্র ৯ কোটি ৬৮ লাখ ৬৫ হাজার ১৭৯ টাকা। পাশাপাশি অনিয়মিত পণ্য আমদানির কারণে বন্দরের রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে বাংলাদেশ থেকে উচ্চ চাহিদা সম্পন্ন বেশ কয়েকটি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত সরকার— যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আখাউড়া স্থলবন্দরের রপ্তানি বাণিজ্যে। ২০২৫ সালের ১৭ মে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, যা এক বছরেরও বেশি সময় পার হলেও এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি।
আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই বন্দর দিয়ে ভারতে ৫২৪ কোটি ২ লাখ ৮৯ হাজার ২৩৮ টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ৫১৪ কোটি ৩৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৯ টাকার পণ্য।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত থেকে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৩৩ হাজার ৭৪০ টাকার চাল, আগরবাতি ও জিরা আমদানি হয়েছে, যা থেকে রাজস্ব এসেছে ৭১ লাখ ৩২ হাজার ৫৯৩ টাকা। অথচ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭ কোটি ৩১ লাখ ৮২ confidant হাজার ৭৫৯ টাকার পণ্য আমদানি হয়েছিল এবং রাজস্ব এসেছিল ৪ কোটি ১৬ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৯ টাকা।
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চালু থাকা এই রপ্তানিমুখী বন্দর দিয়ে প্রতিদিন হিমায়িত মাছ, রড, সিমেন্ট, ভোজ্য তেলসহ বিভিন্ন পণ্য ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা হয়ে উত্তরপূর্ব রাজ্যগুলোতে সরবরাহ করা হয়। তবে ব্যবসায়ীদের অনীহায় গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই বন্দর দিয়ে ভারত থেকে কোনো পণ্যই আমদানি হয়নি।
ব্যবসায়ীরা জানান, আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে যেসব পণ্য আমদানির অনুমতি রয়েছে, তার অধিকাংশ ত্রিপুরার বাইরের রাজ্য থেকে আনতে হয়। ফলে অতিরিক্ত পরিবহন ও আমদানি খরচ মিটিয়ে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা করা সম্ভব হয় না।
আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক রাজীব উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ভারতের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় প্লাস্টিক, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফলের স্বাদযুক্ত জুস, পিভিসি সামগ্রী এবং তুলার মতো উচ্চ চাহিদার পণ্যগুলো থাকায় বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আরেক ব্যবসায়ী মো. নাসির উদ্দিন জানান, স্থানীয় বাজারের চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের পণ্য আমদানির অনুমতি না দিলে লোকসান দিয়ে কেউ পণ্য আমদানি করবে না।
আখাউড়া স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি নিছার উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে যে টানাপোড়েন ছিল— তা এখন অনেকটাই কেটে গেছে। আমরা আশা করেছিলাম নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারত আমদানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। কিন্তু সেটি না করায় এবার আমাদের রপ্তানি আয় আশানুরূপভাবে বাড়েনি।” তিনি দ্রুত দুই দেশের সরকারের আলোচনার মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার শেখ শাহির আহমেদ জানান, পণ্য আমদানি অনিয়মিত হওয়ার কারণে রাজস্ব আয় কিছুটা কমেছে। তবে বাণিজ্য বাড়াতে ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে এবং সব পণ্য আমদানির অনুমতি দেওয়ার দাবির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।



