‘আমার ছেলে সাঁতার জানতো, সনদও ছিল; ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে’

বিমানবাহিনীর চাকরিচ্যুত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় পিবিআইকে দেওয়া আটক আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের বক্তব্য মানতে নারাজ তাহসিফের বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিম। তাঁর দাবি, মূল ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

শুক্রবার পিবিআইকে দীপের দেওয়া তথ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আমাদেরকে এসব কথা বলেন।

তাহসিফের বাবা জানান, তাঁর ছেলে সাঁতার জানতেন এবং পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে সাঁতারের ওপর বড় ধরনের বিশেষ কোর্স সম্পন্ন করে সনদও পেয়েছিলেন। তাই ধাওয়ার মুখে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন—দীপের এমন দাবিকে ‘বাজে কথা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের কিছু হতে পারে না এবং কাউকে ধাওয়া দেওয়ার কোনো কারণও নেই। ঘটনাটিকে আড়াল করতে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে বলে তাঁর আশঙ্কা।

এর আগে ছোট ভাই পরিচয়ে দীপের ডাকেই গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মায়ের মোবাইলে শেষবার বাড়ি ফেরার বার্তা পাঠানোর পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন বুধবার বিকেলে উত্তরখান থানার অধীন তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এদিকে নদ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে টঙ্গী পশ্চিম থানার মাজার বস্তি এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পিবিআই, যা সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফের নিয়ে যাওয়া মোটরসাইকেলের সঙ্গে মিল রয়েছে কি না তা যাচাই করা হচ্ছে।

পিবিআই মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, দীপকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং এটি হত্যা, আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনা—সব দিক বিবেচনা করে তাঁর দেওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, দীপকে হেফাজতে নেওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেলেও তদন্তের স্বার্থে এখনই তা প্রকাশ করা হচ্ছে না। ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে অপরাধীদের চিহ্নিত করতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তাহসিফের বাবা।

Related Articles

Back to top button