১০ বিষয়ে ফেল যাওয়া শিক্ষার্থীকে জালিয়াতি করে পাস করানোর অভিযোগে মামলা


চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ১০ বিষয়ে অকৃতকার্য এক শিক্ষার্থীর নম্বর বাড়িয়ে তাকে পাস করানোর অভিযোগে ওই শিক্ষার্থীসহ শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার সেলের তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সিএমপির পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন। পাঁচলাইশ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার সেলের স্ক্যানিং অপারেটর ইমতিয়াজ আহমেদ চৌধুরী ও মো. রাশেদুল ইসলাম, কম্পিউটার অপারেটর (সলভার) নূর হোসেন রায়হান এবং অভিযুক্ত ১৭ বছর বয়সী সেই শিক্ষার্থী। এ ছাড়া তদন্তে শনাক্তযোগ্য অন্যান্য ব্যক্তি ও অজ্ঞাতনামা সহযোগীদেরও এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা এবং পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০-এর অধীনে এই অভিযোগ আনা হয়।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে ওই শিক্ষার্থী। পুনর্নিরীক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের উত্তরপত্রের নম্বরের সঙ্গে কম্পিউটার সেলের প্রিন্ট আউটের নম্বরে ব্যাপক পার্থক্য দেখতে পেয়ে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান। পরবর্তীতে বোর্ডের চেয়ারম্যানের নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি কারিগরি মূল্যায়নে জালিয়াতির সত্যতা পায়। তদন্তে দেখা যায়, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের যোগসাজশে ১১টি বিষয়ের সৃজনশীল অংশের নম্বর বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে পদার্থবিজ্ঞান ও উচ্চতর গণিতে শূন্য পাওয়া নম্বর বাড়িয়ে ৪৫ ও ৪৬ করা হয় এবং গণিতে ৯ নম্বর বাড়িয়ে ৬৬ বানিয়ে অনলাইনে প্রকাশ করা হয়।
ফলাফলে অসংগতি ধরা পড়ার পর শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ উক্ত শিক্ষার্থীর ফলাফল স্থগিত করে। পরবর্তীতে পাঠানো কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় বোর্ড কর্তৃপক্ষ জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পাঁচলাইশ থানা পুলিশ জানায়, এজাহার গ্রহণের পর ঘটনার তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।




