মাটির সাথে দোস্তি কিংবা শখের কুমোর ঐশী


‘রেখো মাটির পরে দুটি পা, রেখো মাটির সাথে দোস্তি; জেনো আকাশের কোনো ঠিক নেই, মাটি মরণেও দেয় স্বস্তি’—সুরে সুরে কথাগুলো বলেছেন সংগীতশিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান। শহুরে যান্ত্রিকতার ভিড়ে একটু ঘাস ও মাটির সংস্পর্শে আসার এই আকুতি কেবল সায়ানের গানের নয়; বরং এটি এখনকার চিত্রনায়িকা জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশীরও মনের কথা।
গ্রামের শান্ত পরিবেশে জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই অভিনেত্রীর কিছুদিন পরপরই শহুরে পরিবেশে হাঁসফাঁস লাগে। সম্প্রতি অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার পর কাদামাটির কাছাকাছি যাওয়ার তীব্র তাগিদ অনুভব করেন তিনি। ছোটবেলার স্মৃতি আর মাটির প্রতি ভালোবাসার টানেই এবার তিনি শখের বশে হাত দিয়েছেন মৃৎশিল্পে। রাজধানীতে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ক্লে-স্টেশনগুলোর সন্ধান করে বন্ধুর সঙ্গে হাজির হন সেখানে, আর তাতেই শুরু হয় চাকতিতে কাদামাটি ঘুরিয়ে নতুন আকার দেওয়ার সাবেকি সাধনা।
মৃৎশিল্পের অভিজ্ঞতা নিয়ে ঐশী জানান, বাইরে থেকে যতটা সহজ মনে হয়, চাকা ঘুরিয়ে মাটিকে নির্দিষ্ট আকার দেওয়া আসলে বেশ কঠিন। মাটিকে চাকতির ঠিক মাঝখানে বসানো এবং নিখুঁত আকৃতি দেওয়ার এই লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা তার কাছে মৃৎশিল্পীদের দক্ষতা ও পরিশ্রমের প্রতি সম্মান আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রথমবারে পুরোপুরি কিছু বানিয়ে বাসায় নিয়ে আসার মতো পারদর্শিতা না মিললেও, ছোটবেলায় পুকুরপাড়ের উইপোকার মাটি দিয়ে খেলনা তৈরির সেই সোনালী দিনগুলো ঠিকই ফিরে পেয়েছিলেন তিনি।
নিজের জেনারেশন ও ভালোলাগা নিয়ে ঐশী বলেন, তার প্রজন্মের তুলনায় তিনি অনেকটাই ‘ওল্ডস্কুল’ বা সাবেকি স্বভাবের। ফ্রি সময়ে পার্টিতে যাওয়ার চেয়ে মাটি নিয়ে খেলা বা প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে তার বেশি ভালো লাগে।
এদিকে অভিনয়ের বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে তিনি জানান, সাকিব ফাহাদের পরিচালনায় ‘সোলজার’ সিনেমার প্যাচআপ শুটিং বাকি আছে। সেটি শেষ হলেই চলতি বছর সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি পাইপলাইনে থাকা আরও কিছু নতুন কাজের খবর শিগগিরই জানাবেন এই অভিনেত্রী।




