বোমা পাওয়ার পরও নিরাপত্তায় ঢিলেমি, ব্যাগ-বস্তা নিয়ে মেট্রোরেলে যাত্রীরা

মতিঝিল স্টেশনের নিচে শক্তিশালী আইইডি বোমা উদ্ধার এবং পরবর্তীতে ফার্মগেট ও মিরপুর-১০ স্টেশনে পরিত্যক্ত বস্তাকে কেন্দ্র করে বোমাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও মেট্রোরেলের নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও নজরদারির অভাবে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।

ফার্মগেট, আগারগাঁও ও মিরপুর-১০ স্টেশন সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রীরা কোনো ধরনের বাধানিষেধ ছাড়া ব্যাগ, বস্তা ও ট্রলি নিয়ে চলাচল করছেন। প্রবেশপথে দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মীরা স্ক্যানিং ছাড়াই সাধারণ মানুষকে পার হতে দিচ্ছেন।

ফার্মগেট ও সচিবালয় স্টেশনের দায়িত্বরত এমআরটি পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পর্যাপ্ত স্ক্যানার ও আর্চওয়ে বিকল থাকায় বা না থাকায় কেবল হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। জনবল সংকট এবং দীর্ঘ লাইনের ভয়ে সবাইকে পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।

ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের স্টেশন কন্ট্রোলার উজ্জ্বল আলী জানান, তারা মূলত সিসিটিভি এবং যান্ত্রিক বিষয় তদারকি করেন। তবে যেসব স্থানে সন্দেহভাজন বস্তা রাখা হয়েছিল, সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না; শুধু সিঁড়ি ও ফ্লোরে ক্যামেরা রয়েছে।

সিটিটিসির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক জানান, ১ আগস্ট ফার্মগেট ও মিরপুরে উদ্ধারকৃত বস্তাগুলোতে শুধু আবর্জনা ও পান-জর্দার কৌটা পাওয়া গেছে; কোনো বিস্ফোরক ছিল না। ফলে ২৪ জুলাই মতিঝিলে উদ্ধার হওয়া টাইমিং নিয়ন্ত্রিত আইইডির সাথে এই ঘটনাগুলোর সরাসরি কোনো যোগসূত্র এখনো পাওয়া যায়নি। তবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘটনার তদন্ত চলছে।

সাম্প্রতিক বোমাতঙ্কের ঘটনাপঞ্জি:

  • ২৪ জুলাই: মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ১.৫ কেজি ওজনের শক্তিশালী টাইমারযুক্ত আইইডি উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করা হয়।

  • ৩০ জুলাই: আশুলিয়ার একটি দোকানে ট্রাভেল ব্যাগে লুকানো প্রেসার কুকার বোমা (আইইডি) উদ্ধার করা হয়।

  • ১ আগস্ট: ফার্মগেট ও মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশনে পরিত্যক্ত বস্তা ঘিরে বোমাতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

Related Articles

Back to top button