মুক্তির আগেই আইনি জটিলতায় কঙ্গনার ‘কুইন টু’, ২৫০ কোটি রুপির মামলা


মুক্তির আগেই বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়েছে বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘কুইন টু’। মূল ছবির মেধাস্বত্ব (Intellectual Property Rights) লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সিনেমাটির মুক্তি আটকে দিতে এবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ফ্যান্টম স্টুডিয়োস’। ইতোমধ্যে তারা বম্বে হাই কোর্টে ‘জিয়োস্টার’-এর বিরুদ্ধে ২৫০ কোটি রুপির বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করেছে।
ফ্যান্টম স্টুডিয়োসের দাবি, তাদের কোনো রকম অনুমতি না নিয়েই সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ২০১৪ সালের ব্লকবাস্টার ‘কুইন’ সিনেমার এই সিক্যুয়েল বা দ্বিতীয় পর্ব নির্মাণ করা হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের (২০২৬) শুরুতে মূল ছবির পরিচালক বিকাশ বহলের হাত ধরেই শুরু হয়েছিল ‘কুইন ২’ সিনেমার শুটিং। সম্প্রতি সিনেমাটির ক্যামেরা ক্লোজ হয়েছে এবং বর্তমানে এটি পোস্ট-প্রোডাকশনের টেবিলে রয়েছে। শুটিং শেষ হওয়ার খবরটি সামনে আসার পরপরই আইনি লড়াইয়ে নামার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় ফ্যান্টম স্টুডিয়োস।
সংস্থার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার আগে একাধিকবার জিয়োস্টার এবং পরিচালক বিকাশ বহলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। ফ্যান্টম স্টুডিয়োসের পক্ষ থেকে তাদের আপত্তির কথা জানিয়ে একটি আইনি নোটিসও জারি করা হয়েছিল। কিন্তু অপর পক্ষের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া বা সমঝোতার আভাস না মেলায় বাধ্য হয়েই শেষ পর্যন্ত মামলা দায়েরের পথ বেছে নিয়েছে তারা।
২০১৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কুইন’ সিনেমাটি বক্স অফিসে ঝড় তোলার পাশাপাশি দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লুফে নিয়েছিল, যার মধ্যে সেরা অভিনেত্রীর সম্মান পেয়েছিলেন কঙ্গনা রানাওয়াত। সেই সময়ে ছবিটি যৌথভাবে প্রযোজনা করেছিল ‘ভায়াকম১৮ মোশন পিকচার্স’ এবং ‘ফ্যান্টম ফিল্মস’। অনুরাগ কাশ্যপ, বিক্রমাদিত্য মোটওয়ানে, মধু মন্টেনা ও বিকাশ বহল মিলে গড়ে তুলেছিলেন ফ্যান্টম ফিল্মস। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে সংস্থাটি বন্ধ হয়ে গেলেও, ২০২১ সালে ‘ফ্যান্টম স্টুডিয়োস’ নামে নতুনভাবে এর পথচলা শুরু হয়।
ফ্যান্টম স্টুডিয়োসের দাবি, মূল ‘কুইন’ সিনেমার ৫০ শতাংশ মেধাস্বত্বের মালিকানা এখনো আইনগতভাবে তাদের হাতেই রয়েছে। সেই অধিকার বলেই এই সিনেমার সিক্যুয়েল বা রিমেক সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্তের অংশীদার তারা। চলতি বছরের এপ্রিলেই এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংস্থাটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে, ‘কুইন’-এর ওপর ভিত্তি করে কোনো সিক্যুয়েল বা নতুন কোনো সংস্করণ নির্মাণের অনুমতি তারা কাউকে দেয়নি। তা সত্ত্বেও এই সিনেমা নির্মাণ করায় বিষয়টি এখন আদালতের কাঠগড়ায় গড়াল।




