দিল্লিতে ২৩ হাজার সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন, ট্রেন বাতিল ও মেট্রো চলাচল সীমিত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী দিল্লির যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি ঠেকাতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। আন্দোলন বড় আকার ধারণ করতে পারে—এমন আশঙ্কায় রাজধানীজুড়ে কড়াকড়ি, ট্রেন বাতিল ও মেট্রো চলাচল সীমিত করা হয়েছে।

নিরাপত্তা আশঙ্কায় পুলিশ সিজেপিকে যন্তরমন্তরে জমায়েত হওয়ার অনুমতি দেয়নি। নিয়ম অনুযায়ী ১০ দিন আগে আবেদন না করা এবং পূর্বের আন্দোলনের সহিংসতার কথা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মধ্য দিল্লির সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা আইনের ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে।

জনপথ ও কর্তব্যপথের চার কিলোমিটারের আশেপাশের এলাকায় শুক্রবার রাত ১০টা থেকে শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট ও ডেটা পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।

পূর্ব সতর্কতা হিসেবে দিল্লির ৫৭টি মেট্রো স্টেশনে যাত্রী প্রবেশ ও প্রস্থান বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া সরকারের নির্দেশনায় নয়াদিল্লি ও হযরত নিজামুদ্দীন রেলওয়ে স্টেশনগামী শুক্র ও শনিবারের মোট ৬১টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে শুক্রবার ৪০টি এবং শনিবার ২১টি ট্রেন বাতিল করা হয়।

সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানী দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) ২৩ হাজার সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এত বিপুলসংখ্যক মেট্রো স্টেশন একসঙ্গে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালত মন্তব্য করেছে, “মশা মারতে আপনারা হাতুড়ি ব্যবহার করতে পারেন না।” আদালতের এই আপত্তির পর ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা জরুরি বৈঠকে বসে মেট্রো স্টেশনগুলোর কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেন।

Related Articles

Back to top button