ভারী বর্ষণে সৈয়দপুরে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা, চরম দুর্ভোগ

নীলফামারীর সৈয়দপুরে একদিনের টানা ভারী বর্ষণে শহর ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে শুরু হওয়া অবিরাম বৃষ্টিতে শহর ও উপজেলার নিচু এলাকাগুলোতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শহরের মিন্ট্রিপাড়া, মুন্সিপাড়া, গোলাহাট, চাঁদনগর, হঠাৎ বস্তি ও কাজীরহাট এলাকা। এ ছাড়া উপজেলার খিয়ারপাড়া, কামারপুকুর, আইসঢাল, বসুনিয়াপাড়া, খড়খড়িয়া নদীসংলগ্ন এলাকা, কুন্দল, কুজিপুকুর, ঢেলাপীর উত্তরা আবাসন, বাঙ্গালীপুর, খাতামধুপুর, কাশিরাম বেলপুকুর এবং বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে।

পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারাই এই জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বহু বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না বন্ধ রয়েছে, ফলে অনেক পরিবারের চুলোয় দুপুর পর্যন্ত হাঁড়ি চড়েনি। এর ওপর শহরের বিভিন্ন সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকাজের খোঁড়াখুঁড়ির কারণে মানুষের দুর্ভোগ আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে।

সড়কগুলোতে পানি জমে থাকায় যান চলাচলে তীব্র বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে পানি জমে থাকায় অনেক মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা মাঝরাস্তায় বিকল হয়ে পড়ে। ফলে পথচারীদের পাশাপাশি অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বৃষ্টির পানিতে বেশ কিছু এলাকার সবজিক্ষেত ও আমন ধানের বীজতলা তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মাঝে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতার কারণে এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট তৈরি হচ্ছে এবং পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ— খাল-নালা ভরাট, অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বর্ষা এলেই জলাবদ্ধতা ও দুর্ভোগ যেন সৈয়দপুর পৌরবাসীর নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠে। তাদের দাবি, জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌর কর্তৃপক্ষ দ্রুত ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

Related Articles

Back to top button