বন্যার পানি নামতেই চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর দাপট

চট্টগ্রামে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্টি হওয়া বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও নতুন আতঙ্ক হিসেবে দেখা দিয়েছে ডেঙ্গু।


জলাবদ্ধ এলাকার পানি নেমে যাওয়ার পর থেকেই মশাবাহিত এই রোগটির প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। চলতি জুলাই মাসের প্রথম ১৯ দিনেই ২৬০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং এই সময়ে নগরীতে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত মোট ৫৭৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে ৮৫ জন এখনো চিকিৎসাধীন।

জানুয়ারি: ৬৮ জন, ফেব্রুয়ারি: ২২ জন, মার্চ: ২০ জন, এপ্রিল: ২৯ জন, মে: ৩৭ জন, জুন: ১২২ জন, জুলাই (১৯ তারিখ পর্যন্ত): ২৬০ জন (বিগত মাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ)

গত জুন মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নগরীর ৮টি ওয়ার্ডকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বা ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ওয়ার্ডগুলো হলো: ১. জালালাবাদ

২. পাঁচলাইশ, ৩. উত্তর কাট্টলী, ৪. পশ্চিম বাকলিয়া,৫. দক্ষিণ বাকলিয়া, ৬. পাথরঘাটা, ৭. দক্ষিণ হালিশহর, ৮. দক্ষিণ পতেঙ্গা

বিআইটিআইডি হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. মামুনুর রশীদ জানান, বন্যার পানিতে ডেঙ্গুর পুরোনো লার্ভা ধুয়ে যাওয়াটা স্বস্তির ছিল। তবে বৃষ্টির পর তীব্র তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নিয়েছে। বন্যাকবলিত বা জলাবদ্ধ এলাকার কোথাও যদি তিন দিন বা ৭২ ঘণ্টা পানি জমে থাকে, তবে সেখান থেকে এডিস মশার ব্যাপক বংশবিস্তার ঘটবে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

চসিকের মশক নিধন কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম মাহি জানিয়েছেন, তাদের কাছে আগামী ৬ মাসের কীটনাশক মজুত রয়েছে। মশক নিধনে প্রতিটি ওয়ার্ডে ৩০৫ জনের টিম এবং ৮টি হটস্পটে ৭ জনের বিশেষ প্রশিক্ষিত টিম মাঠে কাজ করছে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, হটস্পট এলাকাগুলোতে ফগিং ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া সচেতনতা বাড়াতে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

Related Articles

Back to top button