সংঘবদ্ধ ধর্ষণে প্রতিবন্ধী নারী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এক শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর তিনি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ইতোমধ্যে পুলিশ অভিযুক্তদের একজনকে গ্রেফতার করেছে। অপর আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের ওই নারী (৩৬) দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি পরিবারের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে— গত ১১ জানুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বাড়ির পাশের গোয়ালঘর থেকে ছাই আনতে যান। এ সময় বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে একই গ্রামের সবুজ মিয়া ও আবেদ আলী সেখানে প্রবেশ করেন। তারা তাকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্তদের হুমকি, সামাজিক লজ্জা, ভয় এবং নিজের অসহায় অবস্থার কারণে তিনি দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন রাখতে বাধ্য হন। সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখে স্থানীয় এক কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের সন্দেহ হয়। পরে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে জানা যায়, তিনি প্রায় ২১ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আবেদ আলীকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। অপর অভিযুক্ত সবুজ মিয়া পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অভিযুক্ত আবেদ আলী বর্তমানে কারাগারে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এছাড়া পলাতক সবুজ মিয়ার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের কোনো সদস্যকে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযুক্তদের বক্তব্যও জানা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ও অসহায় নারীর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এমন নৃশংস অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, পলাতক আসামির দ্রুত গ্রেফতার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, মামলা দায়েরের পরপরই একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক অপর আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Related Articles

Back to top button