কবুতর আমদানিতে নথির রহস্য, কোয়ারেন্টাইনে অনিয়ম

বিজয় পাল: পাকিস্তানের করাচি থেকে বাংলাদেশে আনা একটি কবুতরের চালানকে ঘিরে অনুমোদন, কোয়ারেন্টাইন ও শুল্কায়নের প্রতিটি ধাপে গুরুতর অসঙ্গতি ও অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে।
আমদানির নথিপত্রে সংখ্যাগত অমিল, সময়ের অসঙ্গতি এবং বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৯ এপ্রিল (২০২৬) একটি এয়ারওয়ে বিলের মাধ্যমে ‘আইএস এন্টারটেইনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড’ করাচি থেকে কবুতরের এই চালানটি বাংলাদেশে নিয়ে আসে। বন বিভাগের কাছে ৩৫০টি কবুতর আমদানির আবেদন করা হলেও রহস্যজনকভাবে অনুমোদন দেওয়া হয় ৪৫০টির।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ৫০০টি কবুতর রপ্তানির অনুমতি পেলেও দেশটির খাদ্য নিরাপত্তা ও গবেষণা মন্ত্রণালয়ের সনদে সংখ্যাটি দেখানো হয়েছে ৩৫০টি। একই চালানের ক্ষেত্রে ৩৫০, ৪৫০ ও ৫০০—এই তিনটি ভিন্ন সংখ্যা ব্যবহৃত হওয়ায় নথিপত্র জালিয়াতির তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নথির অসঙ্গতি এখানেই শেষ নয়; আমদানির আবেদনপত্রে চালান আসার সম্ভাব্য তারিখ ২৬ এপ্রিল উল্লেখ থাকলেও, তা এক সপ্তাহ আগে অর্থাৎ ১৯ এপ্রিলই দেশে এসে খালাস হয়ে যায়।
আন্তর্জাতিক ও জাতীয় বিধিমালা অনুযায়ী বিদেশ থেকে আনা প্রাণীর ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও কোয়ারেন্টাইন সম্পন্ন করার নিয়ম থাকলেও, এই চালানের ক্ষেত্রে যথাযথ পরীক্ষা ছাড়াই খালাস দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে দেশের প্রাণিসম্পদ খাত এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম জৈব নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
অভিযোগ রয়েছে, অর্থের বিনিময়ে নমুনা সংগ্রহ ছাড়াই এখানে স্বাস্থ্য সনদ ইস্যু করা হয়েছে।
এই ঘটনায় প্রাণিসম্পদ কোয়ারেন্টাইন স্টেশনের কর্মকর্তা ডা. ওমর ফারুক এবং বন বিভাগের পরিদর্শক সাদিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষ করে ডা. ওমর ফারুক পদোন্নতি পাওয়ার পরও দীর্ঘ আট বছর ধরে একই সংবেদনশীল পদে দায়িত্ব পালন করছেন, যা একটি অসাধু সিন্ডিকেটের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার দিকেই আঙুল তুলছে।
দেশের প্রাণিসম্পদ আমদানি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জৈব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ঘটনার পেছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা।




